গত বছরের এপ্রিলে হুট করেই সিডনি থেকে ঢাকায় এসেছিলেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। ঢাকায় ছিলেন মাত্র ৮ ঘণ্টা। অসুস্থ মাকে সঙ্গে নিয়েই আবার উড়াল দেন অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে। তখন জানিয়েছিলেন, বছর শেষে ঢাকায় ফিরবেন। কয়েক মাস দেশে বেড়াবেন, ঘোরাঘুরি করবেন—এমনই ছিল তাঁর পরিকল্পনা। সবকিছুই এগোচ্ছিল পরিকল্পনা অনুযায়ী। কিন্তু হঠাৎ করেই মত বদলান নব্বই দশকের এই জনপ্রিয় নায়িকা।
বাংলাদেশে না এসে তাঁর যাত্রার গন্তব্য বদলে যায় যুক্তরাষ্ট্রে। সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর একমাত্র সন্তান আইজান নেহানের। শাবনূর ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সে আমেরিকা যেতে চায় কি না। সঙ্গে সঙ্গে আইজানের উত্তর ছিল—হ্যাঁ। সেই ‘হ্যাঁ’-এর জন্যই যেন ভ্রমণ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করেন শাবনূর।
এদিকে শাবনূরের দীর্ঘদিনের চলচ্চিত্রসঙ্গীদের অনেকেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছেন। নব্বই দশকের সহকর্মীদের কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরেই অনুরোধ জানাচ্ছিলেন, শাবনূর যেন একবার আমেরিকায় বেড়াতে আসেন। ছেলের আগ্রহ আর সহকর্মীদের টান—দুটিই মিলে যাওয়াতে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে না এসে যুক্তরাষ্ট্রেই উড়াল দেন তিনি।
প্রায় মাসখানেক যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন শাবনূর। আরও কয়েক দিন থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। এর আগে এক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন তিনি। তবে এবারের সফরটা তাঁর কাছে একেবারেই আলাদা। শাবনূর জানালেন, এবারে আনন্দটা অনেক বেশি, অনুভূতিগুলোও বেশ গভীর।’
এই সফরের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতার একটি ছিল—নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে নতুন বছরের প্রথম দিন কাটানো। ছেলে আইজান নেহানকে নিয়ে বছরের প্রথম দিনটাই কাটিয়েছেন পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ত ও আলোঝলমলে এই জায়গায়। সঙ্গে ছিল তুষারপাতের অপূর্ব অভিজ্ঞতা। শাবনূর বলেন, অনেক দিন ধরেই তাঁর ইচ্ছা ছিল স্নোফল দেখার। এবার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। টানা কয়েক দিন দেখার সুযোগ হয়েছে।’
কয়েক বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস করছেন শাবনূর। পরিবারের অনেক সদস্যই সেখানে থাকেন। তবে সিডনিতে বসবাস করলেও তুষারপাত উপভোগ করা তাঁর জন্য সহজ নয়। শাবনূর জানালেন, তিনি যেখানে থাকেন, সেখান থেকে স্নোফল দেখতে গেলে প্রায় আট ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যেতে হয়। সময়, পরিস্থিতি ও বাস্তবতার কারণে তা আর হয়ে ওঠে না। যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময়টাই ছিল তুষারপাতের মৌসুম। তাই এবারে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য মন ভরে উপভোগ করেছেন তিনি।
পড়ুন- রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহার করে ‘মুজিব ভাই’ সিনেমায় খচর ৪ হাজার কোটি টাকা


