বিজ্ঞাপন

রিভিউ আর অভিযোগ : বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের বিতর্ক যেন থামছেই না

বাংলাদেশ–পাকিস্তান ম্যাচের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা এখন গড়িয়েছে আনুষ্ঠানিক বিতর্কে। রিশাদ হোসেনের করা গুরুত্বপূর্ণ ডেলিভারিকে ঘিরে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ রেফারির কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। কারণ এই বলের পর ম্যাচের ভাগ্য বদলে যায়। তাদের দাবি, বাংলাদেশ দল টেলিভিশন রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে রিভিউ করেছে, যা ক্রিকেটের প্রচলিত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে, যখন পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ছিল দুই বলে ১২ রান। রিশাদের বলটি প্রথমে ওয়াইড ঘোষণা করেন শ্রীলঙ্কান আম্পিয়ার কুমার ধর্মশেন, পরে বাংলাদেশ এলবিডাব্লিউ এর রিভিউ নেয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি ব্যাটের খুব কাছ দিয়ে গেছে পরে আল্ট্রা এডজ এ দেখা যায় বল শাহীনের ব্যাটে লেগেছে এবং শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পক্ষে যায়।

পাকিস্তানের আপত্তির মূল জায়গা দুটি। প্রথমত, তাদের দাবি-স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় বলের রিপ্লে দেখানো হচ্ছিল, যা দেখে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা বুঝতে পারে বল ব্যাট স্পর্শ করতে পারে এবং সেই ধারণা থেকেই রিভিউ নেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত, তারা প্রশ্ন তুলেছে নির্ধারিত ১৫ সেকেন্ড সময়সীমার মধ্যে রিভিউ নেওয়া হয়েছিল কি না, কারণ সম্প্রচারে কোনো টাইমার দৃশ্যমান ছিল না।

বিজ্ঞাপন


ক্রিকেট আইনে সাধারণত ফিল্ডিং দলকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই রিভিউয়ের আবেদন করতে হয়। তবে এখানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের দ্রুত পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা। বিশেষ করে লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত-এর গেম অ্যাওয়ারনেস প্রশংসিত হচ্ছে, কারণ তারা দ্রুত বিষয়টি আম্পায়ারের নজরে আনেন। একই সঙ্গে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণও ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে শাহীন শাহ আফ্রিদি-র প্রতিক্রিয়াও আলোচনায় এসেছে। সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় মাঠেই তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ব্যাট দিয়ে মাটিতে আঘাত করেন, যা তার হতাশার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারন এদিন শাহীনের ব্যাটে রান আসছিল, তিনি বেশ ভালো ছন্দে ছিলেন। উক্ত বলের আগে ৩৬ বলে তিনি অপরাজিত ছিলেন ৩৭ রানে, এবং এই রানের ভিতত দুইটি বাউন্ডারি ও সমান সংখ্যক ওভার বাউন্ডারিও ছিলো। এবং তার ব্যাটেই জয়ের স্বপ্ন দেখছিল পাক বাহিনী। এমনিতেই টি-২০ বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর পাক বাহিনিকে নিয়ে ট্রল কম হচ্ছে না এমনকি প্রশ্নবানে বিদ্ধ হচ্ছে সাবেক পাক লিজেন্ডদের।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনায় মূল প্রশ্ন হচ্ছে—বাংলাদেশ নিয়মের ভেতরে থেকে রিভিউ নিয়েছে, নাকি দৃশ্যমান রিপ্লে সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। কারণ যদি মাঠে রিপ্লে দেখানো হয়ে থাকে এবং সেটি রিভিউ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য আরও স্পষ্ট গাইডলাইন প্রয়োজন হতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদ এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেন কি না। যদিও পাকিস্তান কী ধরনের ব্যবস্থা চায় তা স্পষ্ট করেনি, তবে অন্তত একটি ব্যাখ্যা বা প্রক্রিয়াগত স্বীকারোক্তি চাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ম্যাচের ফল বাংলাদেশের পক্ষে গেলেও শেষ ওভারের এই একটি সিদ্ধান্তই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—যেখানে ক্রিকেটীয় নিয়ম, চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত এবং স্পোর্টসম্যানশিপ—সবকিছুই একসঙ্গে বিচার হচ্ছে।

পড়ুন : রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতে সিরিজ বাংলাদেশের

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন