বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনায় নিখোঁজের ২ দিন পর ধানক্ষেতে মিলল মুখ বাঁধা শিশুর মরদেহ

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পাগলা এলাকার সনুড়া জসিউড়া গ্রামে মর্মান্তিক ও রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকা ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ আজ (বুধবার) সকালে বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটির মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা থাকায় স্থানীয়দের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

বিজ্ঞাপন

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেল থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। তাকে কোথাও খুঁজে না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে ওইদিন থেকেই ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালানো হয়। এমনকি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা পুকুর, ডোবা ও পার্শ্ববর্তী সব জলাশয়ে তল্লাশি চালায়। তবুও শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে কলমাকান্দা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

বুধবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে স্থানীয় এক কৃষক তার বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত ধানক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে শিশুটির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শিশুটির মুখ গামছা দিয়ে শক্তভাবে বাঁধা ছিল, যা দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং মরদেহ উদ্ধার করেছে। শিশুটির মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।”

ওসি আরও জানান, এটি সাধারণ কোনো মৃত্যু নয় বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। পুলিশ রহস্যময় এই ঘটনার মোটিভ উদ্ধারে ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে।

নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে শিশুটিকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন স্বজনরা। তবে শেষ পর্যন্ত ধানক্ষেতে এভাবে তার মরদেহ পাওয়ায় এলাকায় শোকের মাতম চলছে। এমন নৃশংস ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

পড়ুন- শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় রাজসাক্ষী হতে চান সাবেক ডিআইজি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন