বিজ্ঞাপন

রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশদের দৌড়াত্ম্য; পোশাক না পড়া, দালালি করার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান না থাকায় বিগত সরকারের সময় প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে । আবার ইউপি সচীবকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদে আসা সেবাপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এসব ভোগান্তির কারন হিসেবে স্থানীয়রা জানান, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নিয়োজিত গ্রাম পুলিশদের দায়িত্বে অবহেলা ও আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে নির্বাচিত ইউপি সদস্যরা রাজনৈতিক ও মামলা জটিলতায় ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত না থাকায় এসব সমস্যা তৈরী হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দফেদার ছাত্তার, গ্রামপুলিশ ছবির উদ্দিন, মোঃ সুমন মিয়া, রিয়াজ মিয়া, লিপি আক্তার,সাব্বির, সাগর ও রুবেল নামে ৮ জন গ্রাম পুলিশ কর্মরত রয়েছেন। এদের মাঝে গ্রামপুলিশ তথা চৌকিদার সুৃমনের পিতা মফিজদ্দিন একই পরিষদের নৈশ প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ৬ মে বুধবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশ করলে এই প্রতিবেদক দেখতে পান, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সামসুল ইসলাম দায়িত্ব পালনকালে গ্রাম পুলিশদের হাজিরা খাতায় গত ৩ দিন কোন গ্রাম পুলিশের হাজিরা স্বাক্ষর নেই । একই সময় সাংবাদিক উপস্থিতি জেনে উপস্থিত কয়েকজন চৌকিদার দৌড়ে স্বাক্ষর করতে আসেন। কিন্তু সেসময় তাদের গায়ে গ্রামপুলিশের নির্ধারিত পোষাক ছিলো না। কেন পোষাক নাই জানতে চাইলে গ্রাম পুলিশরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা সামসুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার উপজেলায় হাজিরা দিতে যায় তাই ওইদিন স্বাক্ষর করে নাই। আর অন্যদিন তাদের কাজ থাকলে আসে অন্যথায় তাদের দেখা যায় না। আমি বারবার সতর্ক করা স্বত্তেও কোন গ্রাম পুলিশ অনুষ্ঠান না থাকলে পোষাক পড়েনা। এটি দুঃখজনক।

অভিযোগ রয়েছে গ্রাম পুলিশরা নিয়মিত পরিষদে আসেননা। মেম্বারগং এলাকায় না থাকায় তারা ওয়ারিশ সনদ, জন্ম নিবন্ধন ও সংশোধনের নামে নানা কাজে দালালির ভূমিকায় থাকেন। তাদের চাহিদা মতো টাকা দিলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ডকুমেন্টস বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়।

এমন এক ঘটনায় ২নং ওয়ার্ড মেম্বার মনির হোসেন ওয়ারিশ সনদ চাওয়া ব্যক্তির কাছে সরাসরি টাকা চাইলে তা দফেদার সাত্তারের মাধ্যমে দেয়ার একটি কলরেকর্ড সংরক্ষণে রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেবা প্রত্যাশি জানান, চৌকিদার সুমন ও তার বাবা নৈশ প্রহরী মফিজউদ্দিন দুজনের বাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন হওয়ায় তারা সেবা নিতে আসা লোকজনের সাথে দূর্ব্যবহার করে। শুধু তাই নয়, তাদের চাহিদা মতো টাকা না দিলে কর্মকর্তা না থাকলে উদ্যোক্তা সেবা নিতে বাঁধা দেন। অভিযোগকারী আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন মালামাল, সরকারী গাছ পালায় ফল ও ফসল মফিজউদ্দিন ও সুমন তাদের বাসায় নিয়ে ভোগ করেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি ও পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেল, ইউপি প্রশাসক ফরিদ আল সোহান বলেন, বিষয়টি জেনেছি, যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পড়ুন- অস্ত্র উদ্ধারে ডিসিদের কঠোর নির্দেশ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন