বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং এ বিষয়ে ভারতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিক্রম মিশ্রি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে ভারত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে, যা স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ।
গত সোমবার বিকেলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ভারত সফররত বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে এ কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব।
গত ১৫ বছরে ভারত বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দিয়েছে—এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব। তিনি বলেন, একটি সরকার অন্য একটি সরকারের সঙ্গে দুই দেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করে। ভারত থেকে বাংলাদেশে যে বিদ্যুৎ যায়, তা কোনো নির্দিষ্ট দলের নেতা-কর্মীদের ঘরে যায় না—সব নাগরিকের কাছেই পৌঁছায়।
বিক্রম মিশ্রি বলেন, ভারতের সম্পর্ক বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে, কোনো একক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়। সীমান্ত পেরিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো প্রকল্পগুলোতে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে গিয়ে সব নাগরিক নির্বিশেষে সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের জোরালো সমর্থন ছিল। শেখ হাসিনার বিভিন্ন অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে একতরফা বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজনে ভারতের সমর্থন দেখা গেছে। ভারতের এই নীতি দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘অতীতে আমরা আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কাজ করেছি। বাংলাদেশে যখন যে সরকার থাকবে, আমরা কাজ করব। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের সব পদক্ষেপ যে বাংলাদেশের সব জনগণকে সন্তুষ্ট করেছে, তা আমরা মনে করি না। তবে এটা স্পষ্ট করেই বলি, অতীতে বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কোনো ধরনের সমর্থন বা সহযোগিতা করেনি ভারত।’
বাংলাদেশে ২০১৪ সাল থেকে তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এর মধ্যে দুটি নির্বাচন হয়েছে বিরোধী দলগুলোকে বাদ দিয়ে। অপর নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। এসব নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এসব নির্বাচন নিয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে গেছে ভারত।
অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। দিল্লিতে তাঁর উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করেন। এ বিষয়টির সমাধানে আপনারা কী ভাবছেন—সে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনার নাম উহ্য রেখে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির ইস্যু দিল্লি–ঢাকা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করি না।’
পড়ুন : দেড় বছরে স্থবির হয়ে পড়া বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া সক্রিয় করছে ভারত : বিক্রম মিশ্রি


