নেত্রকোনা জেলা শহরের আনন্দ বাজার সংলগ্ন মগড়া নদীর ওপর বর্তমানে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ফুটব্রিজটি ভেঙে সেখানে একটি প্রশস্ত ও মজবুত সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় পৌরশহরের আনন্দ বাজার এলাকায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এবং প্রিপ-আইআইডি ব্যবস্থাপনায় ‘জনউদ্যোগ’ এর আয়োজনে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন জেলা ‘জনউদ্যোগ’ এর আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, ‘জনউদ্যোগ’ এর ফেলো প্রবীন সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল, শিকড় উন্নয়ন কর্মসূচির সভাপতি আ ফ ম রফিকুল ইসলাম আপেল, সাংবাদিক এ কে এম আব্দুল্লাহ, সাংবাদিক সুজাদুল ইসলাম ফারাস, পৌর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সানাউল্লাহ, সাইফুল ইসলাম বাবলু, এনামুল হক, আব্দুর রহমান ও নাজমুল হোসেন প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, বর্তমান ফুটব্রিজটি অত্যন্ত সরু এবং জরাজীর্ণ হওয়ায় এখান দিয়ে রিকশা, অটোরিকশা কিংবা ছোট যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে কলমাকান্দা, বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ ও ধর্মপাশা- এই চারটি উপজেলার মানুষের জন্য এ পথটি নেত্রকোনা শহর বাইপাস করে ঢাকায় যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। ব্রিজের সীমাবদ্ধতার কারণে বাস বা ট্রাক চলাচল করতে না পারায় দীর্ঘ পথ ঘুরে শহরে প্রবেশ করতে হয়, যা সাধারণ মানুষের সময় ও ভোগান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মানববন্ধনে বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরীবলেন, “নাগরা ও সাতপাই এলাকার সংযোগস্থলে ব্রিজটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা অবিলম্বে বর্তমান ফুটব্রিজ ভেঙে পূর্ণাঙ্গ ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি, যাতে উত্তর অঞ্চলের মানুষ দ্রুত যাতায়াত করতে পারে।”
সিনিয়র সাংবাদিক একেএম আব্দুল্লাহ বলেন, “যখন ফুটব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল, তখন শহরের জনসংখ্যা কম ছিল। বর্তমানে যানচলাচল ও মানুষের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। শুষ্ক মৌসুম আসার আগেই জরাজীর্ণ ব্রিজটি ভেঙে প্রশস্ত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করতে আমরা স্থানীয় সরকার বিভাগ ও নেত্রকোনা পৌর প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
সুজাদুল ইসলাম ফারাস ও মো. সানাউল্লাহ তারা বলেন, সরকারের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুলের হকের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ- জনস্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ দাবিটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।
মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী মগড়া নদীর এই অংশে স্থায়ী ও প্রশস্ত ব্রিজের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেন অংশগ্রহণকারীরা।


