বিজ্ঞাপন

কাপাসিয়ায় ৫ খুন: লাশের ওপর থাকা অভিযোগপত্রে যা লেখা ছিলো

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের মরদেহের ওপর কম্পিউটারে টাইপ করা পাঁচটি অভিন্ন লিখিত অভিযোগের কপি পাওয়া গেছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লেখা ওই অভিযোগপত্রে পারিবারিক কলহ, অর্থ আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাড়িতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন: ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৪০), তাদের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং ফোরকানের শ্যালক রসুল (২২)। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া হত্যাকাণ্ডের পর মুঠোফোনে স্বজনদের কাছে বিষয়টি স্বীকার করে পলাতক রয়েছেন।

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পাঁচটি লাশের ওপর একটি করে লিখিত অভিযোগের কপি রাখা ছিল। সেগুলো গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি বরাবর লেখা। এই অভিযোগপত্রটি কি কেবল একটি চিরকুট, নাকি সত্যিই এটি থানায় জমা দেয়া হয়েছিল, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

অভিযোগপত্রে যা আছে

মরদেহের ওপর পাওয়া সেই অভিযোগপত্রের সূত্রে জানা যায়, ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম বিয়ের পর থেকে তার উপার্জিত নগদ ১০ লাখ টাকা ধাপে ধাপে নিয়ে বাবার বাড়িতে নিজেদের নামে জমি কেনেন। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, ফোরকান কর্মক্ষেত্রে বাড়ির বাইরে থাকার সুবাদে তার স্ত্রী শারমিন তার এক খালাতো ভাই রাজুর সঙ্গে গভীর পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। ফোরকান বিষয়টি তার মেজো মেয়ে উম্মে হাবিবার কাছ থেকে জানতে পারেন।

অভিযোগে ফোরকান আরও উল্লেখ করেন, পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় গত ৩ মে সন্ধ্যা ৬টার দিকে অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে তাকে একটি রুমের মধ্যে হাত-পা বেঁধে অত্যাচার ও মারধর করেন। এই ঘটনায় তিনি তার স্ত্রী ও শ্বশুরসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

পুলিশের ধারণা, ক্ষোভ থেকেই ফোরকান মিয়া এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

শনিবার (৯ মে) সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।

পড়ুন- গুম-খুনের রাজনীতি থেকে বের হয়ে নতুন দেশ গড়ার প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন