ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দীর্ঘ প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
শনিবার (৯ মে) বিকেলে কসবা উপজেলার ক্ষিরনাল সীমান্তের মেইন পিলার ২০৩৬ এলাকায় ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ দুটি বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া হয়।
নিহতরা হলেন ধজনগর গ্রামের হেবযু মিয়ার ছেলে মো. মুরসালিন (২০) এবং মধুপুর গ্রামের মকরম আলীর ছেলে নবীর হোসেন।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন (সুলতানপুর) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম এবং কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা। ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল অজিত কুমার সিং ও বিশালঘর থানার একাধিক অফিসার।
তবে মরদেহ হস্তান্তর কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান বিজিবি ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম। পরবর্তীতে উনার মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানান, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। মরদেহ পাওয়ার পর তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ছররা গুলিতে তারা নিহত হন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে সীমান্ত এলাকায় একদল ব্যক্তি অবস্থানকালে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে মুরসালিন ও নবীর হোসেনসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুইজনের মৃত্যু হয় বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বিজিবিকে জানায়।
এদিকে বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারী ভারতীয় চোরাকারবারীদের সহায়তায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে প্রায় ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পরে বিএসএফের বাধার মুখে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা দুই রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়ে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

