বিজ্ঞাপন

অবসরের আগে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ ডিএফওর বিরুদ্ধে দুর্নীতি-বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

আগামী ৯ জুন অবসরে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. শফিকুল ইসলাম। তবে বিদায়ের আগে পুরো বিভাগজুড়ে নজিরবিহীন বদলি বাণিজ্য ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিভাগের একাধিক সূত্রের দাবি, গত আট মাসে সরকারি বিধি উপেক্ষা করে কোটি টাকার বিনিময়ে রেঞ্জ, বিট ও চেক স্টেশনে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মাঠে জনবল সংকট, শহরে অতিরিক্ত স্টাফ_
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বনভূমি রক্ষায় যেখানে বিটগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল থাকা জরুরি, সেখানে অধিকাংশ বিট প্রায় জনবলশূন্য। নিয়ম অনুযায়ী একটি বিটে অন্তত ৬ জন কর্মী থাকার কথা থাকলেও অনেক বিটে একজনও নেই।

অন্যদিকে প্রাকৃতিক বন না থাকা শহর রেঞ্জ ও চেক স্টেশনগুলোতে চাহিদার দ্বিগুণ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিভাগীয় তথ্য বলছে, শহর রেঞ্জে ৮ জন ফরেস্ট গার্ডের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন প্রায় ২০ জন। ধূমঘাট চেক স্টেশনে ২ জন সহযোগী স্টেশন অফিসারের পদে আছেন ৩ জন, আর ৬ জন ফরেস্ট গার্ডের স্থলে আছেন ৯ জন। করেরহাট চেকপোস্টে ৮ জনের স্থলে আছেন ৯ জন।

বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ__
বিভাগীয় সূত্রের দাবি, লাভজনক বিট ও চেক স্টেশনে পোস্টিংয়ের জন্য ৪ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ আছে, ডিএফওর সিন্ডিকেটকে মাসোহারা দিলে ‘আরামদায়ক’ পোস্টিং মেলে। অনেক ক্ষেত্রে বদলির আদেশ হলেও রিলিজ না নিয়ে আগের কর্মস্থলেই বহাল থাকছেন কর্মকর্তারা।

চেকপোস্টে চাঁদাবাজির অভিযোগ__
অভিযোগ রয়েছে, ডিএফওর নামে বান্দরবান, লামা ও কক্সবাজার থেকে আসা প্রতিটি গাড়ি থেকে নতুন ব্রীজ চেকপোস্টে ১১০০ টাকা এবং ধূমঘাট চেকপোস্টে ৩৮০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি থেকে আসা বাঁশ-কাঠবোঝাই গাড়ি থেকে হাটহাজারী, করেরহাট ও ফৌজদারহাট চেকপোস্টে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা তোলা হচ্ছে বলে দাবি। বিভাগীয় সূত্র বলছে, এসব টাকার বড় অংশ হাটহাজারী রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ও শহর রেঞ্জ কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায়।

ভয়ভীতি ও হয়রানির অভিযোগ_
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বনকর্মী বলেন, “টাকা না দিলে তদন্ত, শোকজ কিংবা বদলির ভয় দেখানো হয়।” তার দাবি, সৎ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

রেঞ্জ বিক্রির’ অভিযোগ_
বিভাগীয় সূত্রের দাবি, ডিএফওর অবসরের আগেই কে কোন রেঞ্জে বসবেন তার গোপন তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। অভিযোগ, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব পোস্টিং অনেকটা নিলামের মতো বণ্টন হচ্ছে, যাকে প্রশাসনের ভেতরেই ‘রেঞ্জ বিক্রি’ বলা হচ্ছে।

তদন্তের দাবি_
ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের কর্মী এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা দুর্নীতি দমন কমিশন ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডিএফও মো. শফিকুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।

পড়ুন: এবার হরমুজের তলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবলে টোল আরোপের পরিকল্পনা ইরানের

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন