গত শুক্রবার বঙ্গোপসাগর উপকূল এলাকায় আকাশে দেখা যায় রহস্যময় এক আলোর ঝলক। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। পরে জানা যায়, সেটি ছিল ভারতের অত্যাধুনিক মিসাইল অগ্নি-৫-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ।
অগ্নি-৫ এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র, যা একসঙ্গে একাধিক ওয়ারহেড বহন এবং নির্ভুলভাবে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে শনিবার (৯ মে) জানায়, শুক্রবার সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে এমআইআরভি প্রযুক্তি।
পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হয় ভারতের ওড়িশা উপকূলের এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে, যা বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রটির বিভিন্ন ওয়ারহেড ভারত মহাসাগরের নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
ভারতসহ বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের কাছেই এমন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা একটি উৎক্ষেপণের মাধ্যমে একাধিক স্থানে হামলা চালাতে পারে।
এর আগে গত বছরের মার্চে প্রথমবার অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় নয়াদিল্লি।
প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল, ভারত হয়তো তাদের আন্তঃমহাদেশীয় অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে, যা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। তবে পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি ছিল অগ্নি-৫-এর দ্বিতীয় পরীক্ষা।
প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম অগ্নি-৫ পারমাণবিক অস্ত্র বহনেও সক্ষম।
ভারতের অগ্নি সিরিজের ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। অগ্নি-৫ যুক্ত হওয়ায় দেশটির সামরিক সক্ষমতা আরও বেড়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে


