বিজ্ঞাপন

রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

বিচার শালিসে পক্ষ নিয়ে অবস্থান নিয়ে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মাঝে ধাওয়া পালটা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, এক পক্ষ আরেক পক্ষের বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

বিজ্ঞাপন

সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে উভয়পক্ষ গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এমন ঘটনা সোমবার দুপুরে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০দিন আগে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা সাইট দেওয়া নিয়ে রুপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের ভাই আমিন হোসেনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খাঁর তর্কের জেরে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় বিল্লাল হোসেন খাঁ বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।
পরে স্থানীয়রা ১১ মে সোমবার এ নিয়ে বরুনা এলাকায় বিচার সালিশের আয়োজন করা হয়। বিচার সালিশে আমিন হোসেনের পক্ষ হয়ে তার ভাই রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম উপস্থিত হন। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খাও তার লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।


বিচার চলাকালীন সময়ে উভয় পক্ষের লোকজন তর্ক-বিতর্ক ও বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা এক পক্ষ আরেক পক্ষের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাঙচুর লুটপাট চালায়। শুধু তাই নয়,হামলাকারীরা এক পক্ষ আরেক পক্ষকে লক্ষ্য করে থাকা গুলি বর্ষন করেন। এতে করে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্কে সৃষ্টি হয়। লোকজন ছোটাছুটি করতে শুরু করে। সংঘর্ষের উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জনের মতো আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার একদল পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে ঘটনাস্থল এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিল্লাল হোসেন খাস ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী পরিকল্পিতভাবে আমাদের লোকজনের উপরে হামলা চালিয়ে গুলি বর্ষন করেছে এবং ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আহত ঘটনা ঘটিয়েছে।
অপরদিকে, পাল্টা অভিযোগ করে প্রতিপক্ষ বিল্লাল হোসেন খা বলেন, বিচার সালিশে তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে রফিকুল ইসলাম এর লোকজন হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ এবং ভাঙচুর লুটপাট চালিয়ে আহত ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পৌঁছে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রনে নিয়ে এসেছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পড়ুন- সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে ‍শুভেন্দুর নির্দেশ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন