কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী, শ্যালক ও দুই শিশুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। আর সবচেয়ে ছোট শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
সোমবার (১১ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাজহারুল হক এসব তথ্য জানান।
গত শনিবার সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে একটি বহুতল বাড়ি থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন— শারমিন খানম, তার মেয়ে মীম খানম, উম্মে হাবিবা ও দেড় বছরের ফারিয়া এবং ভাই রসুল মোল্লা।
পুলিশ জানায়, তারা সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মজিবুর রহমানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক।
ফরেনসিক চিকিৎসক মাজহারুল হক জানান, ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে শারমিন, রসুল, মীম ও হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। আর শিশু ফারিয়াকে শ্বাসরোধে মারা হয়।
এছাড়া হত্যাকাণ্ডের আগে নিহতদের চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা জানতে পেটের খাদ্যসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি–র ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় শনিবার রাতে শারমিন খানমের বাবা নিহতের স্বামী ফোরকান মোল্লাকে (৪০) প্রধান করে অজ্ঞাত চার জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ফোরকান মোল্লাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

