বিজ্ঞাপন

স্বাক্ষর জাল করে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, লাপাত্তা খুবির সহকারী রেজিস্ট্রার

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের সহকারী রেজিস্ট্রার ইউসূফ রায়হানের বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিন প্রধান ও কোর্স কো-অর্ডিনেটরের স্বাক্ষর জাল করে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এক্সিকিউটিভ এমবিএ (ইএমবিএ) প্রোগ্রামের ফান্ডের প্রায় ১৮ লাখ টাকা নিয়ে তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

সোমবার (১১ মে) শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার রেজিস্ট্রেশনের তথ্য যাচাই করতে গেলে এই জালিয়াতির ঘটনা জানাজানি হয়।

ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. নূর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সহকারী রেজিস্ট্রার আমার এবং কোর্স কো-অর্ডিনেটরের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়েছেন। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি ও পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য খাতের অর্থ রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আজ তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং সে অনুযায়ী কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইএমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে সহকারী রেজিস্ট্রার ইউসূফ রায়হানের মাধ্যমে সেমিস্টার ও পরীক্ষার ফি জমা দিতেন। জাওয়াদ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা বরাবরই রায়হান ভাইয়ের মাধ্যমে ফি দিয়ে আসছি। এবারও দিয়েছি। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন চেক করতে গিয়ে দেখি টাকা জমা হয়নি এবং কোর্স সম্পন্ন দেখাচ্ছে না। বিষয়টি স্যারদের জানালে তারা তদন্তের আশ্বাস দেন।”

আরেক শিক্ষার্থী সৌমেন আক্ষেপ করে বলেন, “প্রথম সেমিস্টার থেকেই আমরা দাপ্তরিকভাবে তার কাছেই টাকা দিয়েছি। তিনি এভাবে আমাদের ফী আত্মসাৎ করবেন, সেটা আমরা কল্পনাও করিনি।”

একই বিষয়ে কোর্স কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর এস এম জাহিদুর রহমান বলেন, “আমাদের স্বাক্ষর জাল করে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকাগুলো সরানো হয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্তাধীন।”

অভিযোগ ওঠার পর থেকেই সহকারী রেজিস্ট্রার ইউসূফ রায়হানকে কর্মস্থলে পাওয়া যাচ্ছে না। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ছিনতাই নাটক, ভাতিজা সহ আটক ৩

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন