বিজ্ঞাপন

টিকা নিয়ে দোষীদের খোঁজার আগে আমার মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে’

দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার (১৩ মে) সরকারি ভ্যাকসিনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বর্তমানে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং টিকাদান কার্যক্রমকে বেগবান করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী জানান, হামের পরবর্তী জটিলতা হিসেবে অনেক শিশুর নিউমোনিয়া দেখা দিচ্ছে, যার জন্য ভেন্টিলেশন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। সরকার ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন সুবিধা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া, একজন বেসরকারি উদ্যোক্তার মাধ্যমে আমেরিকা থেকে আরও ১০টি নতুন ভেন্টিলেটর অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে, যা আজই বিভিন্ন হাসপাতালে বণ্টন করা হবে। বর্তমানে হামের চিকিৎসা, আইসোলেশন ও আইসিইউ সেবা সচল রয়েছে এবং চিকিৎসকরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

ভ্যাকসিন পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, আমাদের হাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন রয়েছে। আজ চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাক থেকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ (৭৬,৬১৬ ভায়াল) ভ্যাকসিন সরকারিভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পোলিও এবং অ্যান্টির্যাবিস (জলাতঙ্ক) টিকা দেওয়ার কার্যক্রমও পুরোদমে শুরু হচ্ছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, একটি শিশুও যেন টিকার আওতার বাইরে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের সাময়িক স্বল্পতা নিয়ে মন্ত্রী জানান, আগামী জুন মাসের মধ্যেই পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাবে। পূর্ব নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এছাড়া নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি, তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত টিকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

টিকা নিয়ে অতীতে কোনো অব্যবস্থাপনা হয়েছে কি না বা তদন্ত করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘কে দোষ করেছে সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে।’ 

তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে দেশ একটি সংকটকাল অতিক্রম করছে। এই জরুরি অবস্থা শেষ হওয়ার পর অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পড়ুন:সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন

দেখুন:সিরাজগঞ্জে বাড়ছে হামের রোগী, বিছানা না পেয়ে শিশুকে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে |

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন