যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পেশাদার বাস্কেটবল খেলোয়াড় জেসন কলিন্স মারা গেছেন। তিনি ছিলেন প্রথম সক্রিয় পুরুষ ক্রীড়াবিদ, যিনি আমেরিকার বড় কোনো পেশাদার ক্রীড়া লিগে খেলার সময় প্রকাশ্যে সমকামী হিসেবে নিজেকে পরিচিত করেছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর।
পরিবারের দেওয়া এবং জাতীয় বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এনবিএ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, জেসন কলিন্স মস্তিষ্কের এক আগ্রাসী ক্যানসার—গ্লিওব্লাস্টোমার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মারা যান।
গত বছর তিনি জানান, তার শরীরে এই ক্যানসার ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা চলছিল, যা রোগটির বিস্তার রোধে সহায়তা করছিল। এটি একটি অচিকিৎসাযোগ্য রোগ হিসেবে বিবেচিত।
এনবিএ কমিশনার অ্যাডাম সিলভার বলেন, ‘জেসন কলিন্সের প্রভাব বাস্কেটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি এনবিএ, ডব্লিউএনবিএ এবং পুরো ক্রীড়া জগৎকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সাহায্য করেছেন।’
কলিন্স ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জানিয়েছিলেন, মাথা ঘোরার সমস্যা থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে তার ক্যানসার ধরা পড়ে। তিনি বলেছিলেন, টিউমারটি ছিল তার মস্তিষ্কের নিচের অংশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একটি বড় ‘শুঁড়যুক্ত দানবের’ মতো।
চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছিলেন, চিকিৎসা না নিলে তিন মাসের মধ্যেই তার মৃত্যু হতে পারত।
রোগের খবর প্রকাশের সময় তিনি মনে করেছিলেন ২০১৩ সালে প্রকাশ্যে সমকামী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করার সেই মুহূর্তের কথা। তিনি বলেছিলেন, সেই সময়ের পরের জীবন ছিল তার ‘জীবনের সেরা সময়’।
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আপনি যখন নিজের সত্য পরিচয়ে নির্ভয়ে সামনে আসেন, তখন জীবন অনেক ভালো হয়। এটাই আমি। এটাই আমার বাস্তবতা।’
কলিন্সকে ক্যানসার ধীর করার জন্য বিশেষ ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল এবং তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরেও যাতায়াত করছিলেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার এই বাসিন্দা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কলেজ পর্যায়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং পরে এনবিএতে যোগ দেন। তিনি ১৩ মৌসুমে ছয়টি দলে খেলেছেন, যার শুরু নিউ জার্সি নেটস দিয়ে।
২০১৩ সালে তিনি টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকাতেও স্থান পান। ২০১৪ সালে তিনি পেশাদার ক্যারিয়ার থেকে অবসর নেন।
পড়ুন:সম্ভাবনাময় ৯০ জন নবীন খেলোয়াড়কে ক্রিকেট কিট দিলো রবি
দেখুন:সিরাজগঞ্জে বাড়ছে হামের রোগী, বিছানা না পেয়ে শিশুকে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে |
ইমি/


