স্থবির হয়ে পড়া সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমকে নতুন করে গতিশীল করতে বড় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ১ হাজার ২২৭ কোটি টাকার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)।
মঙ্গলবার (১২ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এডিবির অর্থায়নে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এ প্রকল্পে এডিবি ১০ কোটি মার্কিন ডলার সহজশর্তে ঋণ দেবে। পাশাপাশি সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকেও অর্থায়ন করা হবে।
সরকারের আশা, এই অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের বিশাল অনানুষ্ঠানিক শ্রমশক্তিকে পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ আরও এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে পেনশন ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, অবকাঠামো ও সেবার পরিধিও বাড়ানো হবে।
উল্লেখ্য, দেশের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি চালু করেছিল তৎকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই তড়িঘড়ি করে কর্মসূচি চালুর কারণে শুরু থেকেই এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অর্থনীতিবিদরা।
প্রথম দিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছু আগ্রহ তৈরি হলেও পরে সেই গতি ধরে রাখা যায়নি। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এ কর্মসূচির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। আন্দোলনের পর সরকার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এরপর থেকেই কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়।
সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নিবন্ধন করেছেন। এসব স্কিমে জমা হয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মুনাফাসহ বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
সভায় আরও জানানো হয়, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়বে। তাই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
২০৩০ সালের লক্ষ্য: ৪ কোটি পরিবার
সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে অন্তত একজন সদস্যকে পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণের নির্দেশ দেন।
এ ছাড়া শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও ইতিবাচক মত দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

