‘করব কাজ, গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ”
এই স্লোগান সামনে রেখে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রমের আওতায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচি বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে সিরাজগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে এই প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেসব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপন, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুফসহ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরা মূল বক্তব্য রাখেন জেলা তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আলী।
এসময় তিনি জানান, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় চালু হওয়া ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন।
এছাড়াও সরকার দ্বিতীয় পর্যায়ে ২২ টি উপজেলার ২২ টি ইউনিয়নের ২২টি ওয়ার্ডের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই ২২ টি ইউনিয়নের মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের কাটেংগা, ক্ষুদ্র কাটেংগা ও সিংগারবিল গ্রামে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই ওয়ার্ডের ৬৫৪টি খানা পরিবারকে টি এম টি স্কোয়ারের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই পরিবারগুলোর মহিলা প্রধান মাসিক ২৫০০ টাকা করে সম্মানী পাবে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রেসব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলায় ৮ কি. মি. খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ১০ হাজার নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিআরটিসির মাধ্যমে মহিলা বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়।
সারাদেশে ইমাম মোয়াজ্জিনদের জন্য সরকার মাসিক কার্যক্রমে আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেকটি ইউনিয়ন এবং প্রত্যেকটি পৌরসভা হতে একটি করে মোট ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি উপজেলা হতে দুটি করে মোট ৯৯০ টি মন্দির। ৭২টি উপজেলায় বৌদ্ধবিহার অবস্থিত হওয়ায় প্রতিটি উপজেলা হতে দুটি করে মোট ১৪৪ টি বৌদ্ধ বিহার ও ১৯৮টি উপজেলায় গির্জা অবস্থিত হওয়ায় প্রতিটি উপজেলা হতে দুটি করে মোট ৩৯৬ টি গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির বিষয়ে জানানো হয়, ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা এ কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, বীজ ও সারসহ ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন। প্রথম পর্যায়ে ১০ জেলার ১১ উপজেলার ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে দেশের এক কোটি ৬৫ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রচার কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, গত ১৮০ দিনে সারাদেশে এক হাজার ২১টি উঠান বৈঠক, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১ হাজার ৬০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, তিন হাজার ২৪৮টি সড়ক প্রচার ও দুই হাজার ৩৬১টি অনলাইন প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
একই সময়ে সিরাজগঞ্জ জেলা তথ্য অফিস ১৭টি উঠান বৈঠক, ৫টি কমিউনিটি সভা, ৪১টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৮০টি সড়ক প্রচার, ৬টি সঙ্গীতা অনুষ্ঠান, ১টি নারী সমাবেশ ও একটি ফ্যামিলি সমাবেশ আয়োজন করেছে।
প্রেসব্রিফিংয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গণপতি রায়, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান হাসান, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ইন্না, সহ-সভাপতি হীরক গুণ, নাগরিক টেলিভিশনের সিরাজগঞ্জ দক্ষিণ প্রতিনিধি সুজন সরকারসহ সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


