বিভিন্ন প্রকার মাদক আমদানির মূল ঘাটি হলো রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চারঘাট ও বাঘা উপজেলা। এই উপজেলা গুলো পদ্মার নদীর তীরবর্তী হওয়ার কারনে খুব সহজেই নদী পথে আমদানি হচ্ছে বিভিন্ন প্রকারের মাদক দ্রব্য। মাদক নেশার কারনেই ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ, ঝড়ে পড়ছে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী। নেশার টাকা যোগান দিতেই প্রতিনিয়ত সংঘঠিত হচ্ছে অপরাধ। ব্যবসায়ীরা বিক্রয় কেন্দ্র হিসাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গীর্জা, মন্দ্রীর ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে।
ভারত থেকে মাদক পাচারে বিএসএফ এর সহযোগিতা রয়েছে বলে জানা যায়। বিজিপি বলছে মাদক পাচার বন্ধে তারা ততপর রয়েছে। পুলিশের অভিযান চলামন আছে, প্রশাসন বলছে প্রতিনিয়িত মোবাইল কোর্ট পরিচালানা করা হচ্ছে। তবুও মাদক উত্তরবঙ্গের ভারত ও বাংলাদেশের সীমানা এলকার দিয়ে ঢুকছে। মদদে রয়েছে রাজনৈতিক, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলার হাত।
রাজশাহীর চর এলাকায় বসবাসকারীদের দেওয়া তথ্য মতে জানা যায়, ভারতের বিএসএফ মাদক আমদানিতে সহযোগিতা করে থাকে। রাজশাহীর যারা মাদক কারবারী আছে তাদের সঙ্গে বিএসএফ’র ভালো যোগাযোগ রয়েছে। ভারতের ও বাংলাদেশ জিরো সীমানায় মাদক পাচারের সেফ জোন বা পয়েন্ট আছে। যেখানে উভয় দেশের ফোর্স টহলে থাকে না। ভারতের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো মাদক যত পারো নিয়ে যাও তবে অন্য কোন পণ্য দেওয়া যাবে না। দেশের তরুন সমাজকে ধ্বংস করায় তাদের প্রধান লক্ষ্য।
মাদকের প্রকার ভেদে পাচার পদ্ধতী বা কৌশল
ইয়াবা মরন নেশা যা দেশের লোকজন “বাবা” হিসাবে পরিচিতি রয়েছে। ইয়াবা মূলত মায়েরমা (বার্মা) উৎপত্তির স্থল। ইয়াবার প্রকৃত নাম হলো “বুলবুলাইয়া” এই পিল মায়েরমা পশুদের খাওয়ানো হয়। বিশেষ করে ঘোড়াকে এই পিল খাওয়ানো হয়। ইয়াবা খাওয়ার পর ঘোড়া তার বহন ক্ষমতা এবং দূর দূরান্তে চলার শক্তি পেয়ে থাকে।
এই পিল ভারতের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসে। এই নেশা দ্রব্য মানুষের রোগ প্রতিরোধক ঔষধের মতো হওয়ার কারনে সহযেই পাচার করা সম্ভব হচ্ছে। এই মাদকের আকার ও রঙ সাধারন ঔষধের মতই। ইয়াবার প্রধান রঙ হলো গোলাপী কিন্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজের জটিলতা আনতে বিভিন্ন রঙের ইয়াবা এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এই মাদক পাচারে রাখাল ও জেলেদের ব্যবহার করা হয়। চরঞ্চালে অনেকে গরু-ছাগল পালনে অস্থায়ী বাড়ি নিমার্ণ করে বসবাস করে। একই ভাবে জেলেরা রাতে নদীতে মাছ শিকার করে। যার কারনে তাদেরকেও রাতের বেশি সময় নদীতে নৌকায় থাকতে হয়। এই দুই শ্রেনী পেশার মানুষকে ব্যবহার করছে মাদক ব্যবসায়ীরা।
একই ভাবে ফেন্সিডিল নেশা দ্রব্য রাজশাহীতে ঢুকছে। তবে জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় এর প্রবণাতা অনেক বেশি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা ফেন্সিডিল হিসাবে চারঘাটকে চিনে, চারঘাট মানেই ফেন্সিডিলে খ্যাত। একাধিক সূত্রমতে ফেন্সিডিল ভারতে কাশির সিরাপ হলেও বর্তমান বাংলাদেশে মাদক শ্রেনীতে উন্নতি হয়েছে। প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ফেন্সিডিলকে কাশির সিরাপ হিসাবে বিবেচিত করছেন না।
চারঘাট উপজেলার প্রায় ৩৪টি পয়েন্ট দিয়ে ফেন্সিডিল ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। নেশার জন্য রয়েছে স্থায়ী ও ভ্রাম্যমান ব্যবস্থা। বর্তমান ঔষধ ফার্মেসীর পাশাপাশি ইয়বা ও ফেন্সিডিল লাভজনক ব্যবসা। উপজেলার প্রায় ঔষধের দোকানে ফেন্সিডিল কম বেশি বিক্রয় হলোও ইয়াবা পিল পাওয়া যায় চাহিদা মতো। বাঘা উপজেলায় রয়েছে প্রায় ৫-৭টি পয়েন্ট, তবে নদীতে পানি না থাকায় ২-৩টি পয়েন্ট দিয়ে মাদক আমদানী হচ্ছে।
জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা দেশ জুড়ে হেরোইন আমদানিতে বেশ খ্যাত। দেশের জেলা ও উপজেলার মানুষরা গোদাগাড়ী স্থানীয়দের “হিরো” হিসাবে জানেন। প্রকৃত অর্থে নদী তীরবর্তী এলাকার সিংগ ভাগ মানুষ হেরোইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়রা অনেকে এই ব্যবসা করে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন। কিন্ত তারা ধ্বংস করেছে হাজার হাজার মানুষের জীবন। রাজশাহীর জেলে বেশির ভাগ আসামী মাদকাসক্ত ও ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশির ভাগ হেরোইন, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল মামলার আসামী।
স্থানীয়দের মতে, ভারতে থেকে মাদক পাচারে সহযোগিতা করছে বিএসএফ। দেশের মধ্যে মাদক ঢুকতে সহযোগিতায় রয়েছে বিজিবি ও নৌ-পুলিশ। তবে খুচরা ও পাইকারী বিক্রি করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে থাকেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। সচেতন মহল ও স্থানীয়রা বলেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যারা মাদক কারবারীদের সহযোগিতা করে থাকেন তাদের সংখ্যা অনেক কম। কিন্ত স্থান ভেদে মাদক প্রবণতা অনেক বেশি।
পড়ুন: লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
আর/


