বিজ্ঞাপন

নিরাপদ খাদ্য ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় নেত্রকোনায় কম্পোস্ট তৈরি কর্মশালা

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং মাটির উর্বরতা ও স্বাস্থ্য রক্ষায় নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কম্পোস্ট সার তৈরি’ বিষয়ক এক ব্যতিক্রমী প্রশিক্ষণ কর্মশালা। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এর সহযোগিতায় নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটি গ্রামের “কাইলাটি এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার” এই কর্মশালার আয়োজন করে। গ্রামের ২০ জন উদ্যমী জৈবচাষীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এ কর্মশালায় প্রধান আলোচক ও প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কৃষক গবেষক গোলাম মোস্তফা মধু। বর্তমান কৃষি ব্যবস্থার সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাসায়নিক সারের অতি ব্যবহার মাটির উর্বরতা কমিয়ে দিচ্ছে। অবাধে কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে মাটি, পানি ও বায়ু বিষাক্ত হচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে আমাদের খাদ্যে। মানুষ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক চাষাবাদের জন্য বাড়িতে তৈরি কম্পোস্ট সারের কোনো বিকল্প নেই। এটি শুধু মাটির স্বাস্থ্যই ফেরায় না, বরং কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে লাভ দ্বিগুণ করতে সহায়তা করে।

প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি কৃষকদের হাতে-কলমে বিভিন্ন ধরনের সার তৈরির পদ্ধতি শেখানো হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার), কুইক কম্পোস্ট ও গর্ত কম্পোস্ট, ট্রাইকো-কম্পোস্ট তরল সার ও সবুজ সার, ছাই ও গোবরের বৈজ্ঞানিক ব্যবহার।

প্রশিক্ষক গোলাম মোস্তফা মধু প্রতিটি সারের সঠিক সংমিশ্রণ এবং এর গুণাগুণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং অংশগ্রহণকারী কৃষকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। কর্মশালায় উপস্থিত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সানজিদা খাতুন এবং বারসিক কর্মকর্তা রোখসানা রুমি কৃষকদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

কাইলাটি এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক যুব কৃষক এনামুল হক আকাশ তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কাইলাটিকে সম্পূর্ণ কীটনাশকমুক্ত গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলা। স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে আমাদের এই লার্নিং সেন্টার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে।”

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কৃষকরা নিজেদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। তারা স্বীকার করেন, দীর্ঘস্থায়ী এবং বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের জন্য এ ধরনের প্রায়োগিক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুদিনা গাছের চারা ও পাতা বিতরণ করা হয় এবং তারা কাইলাটি এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের বিভিন্ন প্রদর্শনী প্লট ঘুরে দেখেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দরুনবালি এগ্রোইকো লানিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক কৃষক আবুল কালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : রেলওয়ের লাইন, সিস্টেম ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বেসরকারি বিনিয়োগে উৎসাহিত করার চিন্তাভাবনা রয়েছে

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন