বিজ্ঞাপন

লালমনিরহাটে তিস্তায় বালু তোলার গর্তে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

লালমনিরহাট সদরের রাজপুর এলাকায় তিস্তা নদীতে গোসল করতে নেমে আপন দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) দুপুর ১টার দিকে রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন তিস্তা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো,রাজপুর বাজার এলাকার রেজাউল করিম মাস্টারের বড় ছেলে সিফাউল করিম সিফাত (১৮) ও ছোট ছেলে সোহায়েব করিম স্বচ্ছ (১৩)। তারা দুজনেই লালমনিরহাট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। সিফাত একাদশ শ্রেণিতে এবং স্বচ্ছ নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল।

বিজ্ঞাপন

​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় দুপুরে তিস্তার চরে ফুটবল খেলতে গিয়েছিল দুই ভাই। খেলা শেষে গোসল করার জন্য তারা নদীর তীরে থাকা একটি ডিঙি নৌকায় ওঠে। এ সময় নৌকার দোলনিতে ছোট ভাই স্বচ্ছ হঠাৎ পানিতে পড়ে যায়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করতে বড় ভাই সিফাতও নদীতে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু নদীর নিচে লুকিয়ে থাকা গভীর এক গর্তে তলিয়ে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় দুজনেরই।

​জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে তিস্তার তীর রক্ষায় জিও ব্যাগে ভরার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ওই স্থান থেকে বালু উত্তোলন করেছিল। বালু তোলার কারণে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বিশাল এক গর্তের সৃষ্টি হয়, যা এই দুই ভাইয়ের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এদিকে, নিহতদের বাবা রেজাউল করিম পায়ের অপারেশনের জন্য স্ত্রীসহ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাড়িতে বাবা-মা না থাকার সুবাদেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

​উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল ইসলাম জানান, নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের জন্য সেখানে বালু তোলা হয়েছিল। এতে ১৫ থেকে ১৬ ফুট গভীর একটি গর্ত তৈরি হয়। আমি পানিতে নেমে দেখি, ছোট ভাইয়ের হাত শক্ত করে ধরে আছে বড় ভাই। ধারণা করছি, ছোট ভাই গর্তে পড়ে যাওয়ার পর তাকে তুলতে গিয়েই বড় ভাইও সেখানে তলিয়ে যায়।

​রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ডাবলু অধিকারী গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ছেলে দুটি অত্যন্ত ভদ্র ছিল। ছুটির দিনে তারা প্রায়ই চরে ফুটবল খেলতে যেত। তাদের বাবা গতকাল অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মা-ও তার সাথে সেখানে। এই সুযোগেই তারা নদীতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলো।

তিনি আরও বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষ এই নদীর সাথে সংগ্রাম করেই বেঁচে আছে। নদীর দুই পাশে যদি স্থায়ী বাঁধ থাকত এবং নদীর গভীরতা সম্পর্কে মানুষের ধারণা থাকত, তাহলে হয়তো আজ এই দুটি তাজা প্রাণ ঝরে যেত না।

​লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পানিতে ডুবেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে আমাদের একটি পুলিশ দল পাঠানো হয়েছে, তারা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

পড়ুন- নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে বিএনপি: জামায়াত আমির

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন