বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জে গরু ডাকাতি: রাজধানীর সুপারশপে বিক্রি হতো লুটের মাংস, গ্রেপ্তার ৩

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কে চাঞ্চল্যকর গরু ডাকাতির ঘটনায় ভয়ংকর এক চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ডাকাতি হওয়া গরু জবাই করে রাজধানীর বিভিন্ন সুপারশপে মাংস সরবরাহের অভিযোগে কুখ্যাত ডাকাত সদস্যসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সলঙ্গা থানা পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, মানিকগঞ্জের কুখ্যাত ডাকাত সদস্য হাসান ওরফে রিপন, আশুলিয়ার মাংস ব্যবসায়ী জিয়া ও তার সহযোগী আলিম।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, গত ১৭ এপ্রিল ২০২৫, কোরবানির ঈদের আগে চট্টগ্রামের বাসিন্দা আমানুল্লাহ উত্তরবঙ্গ থেকে ১৪টি ষাঁড় গরু কিনে ট্রাকে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের সালঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত দল তাদের ব্যবহৃত পিকআপ দিয়ে গরুবাহী ট্রাকটির গতি নিয়ন্ত্রণ করে। এরপর অস্ত্রের মুখে ট্রাকের চালক, হেলপার ও গরুর রাখালকে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ডাকাতরা নিজেদের পিকআপে তুলে নেয়। পরে গরুসহ ট্রাকটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর সালঙ্গা থানায় মামলা হলেও দীর্ঘদিন রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়নি। পরে সলঙ্গা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য হাসান ওরফে রিপনকে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রিপন ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ১২ সদস্যের সংঘবদ্ধ চক্রের তথ্য প্রকাশ করে। একই সঙ্গে বেরিয়ে আসে লুট হওয়া গরুর ভয়ংকর পরিণতির তথ্য।

তদন্তে জানা যায়, ডাকাতরা ডাকাতির পর গরুগুলো ঢাকার আশুলিয়ার এনায়েতপুর এলাকায় অবস্থিত জিয়ার খামারে বিক্রি করে। অভিযোগ রয়েছে, জিয়া গরুগুলো দ্রুত জবাই করে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত সুপারশপ ও মাংস সরবরাহ চেইনে সরবরাহ করতেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিয়া ও তার সহযোগী আলিমকেও গ্রেপ্তার করে।

সলঙ্গা থানার (ওসি) মো. এনামুল হক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতি মামলার গুরুত্বপূর্ণ রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে হাসান ওরফে রিপন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ডাকাতির পর গরু জবাই করে রাজধানীতে মাংস সরবরাহের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছি।

পড়ুন- হাম উপসর্গে আরও ২ জনের মৃত্যু, ২ মাসে প্রাণহানি ছাড়াল ৪৫০

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন