চার বছরের হাসি-কান্না, বন্ধুত্ব, সংগ্রাম আর স্বপ্ন বুননের অসংখ্য স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়েই বিদায়ের ক্ষণে আবেগে ভাসলেন সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা। “ফাইবার টু ফিউচার” শিরোনামে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান যেন হয়ে উঠেছিল স্মৃতি, ভালোবাসা আর নতুন ভবিষ্যতের প্রত্যয়ের এক মিলনমেলা।
শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাখালী অস্থায়ী ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অতিথি ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। “We Will Rise Up & Shine” স্লোগানে আয়োজিত অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল ভবিষ্যৎকে জয় করার প্রত্যয়, আবার প্রিয় ক্যাম্পাস ছাড়ার বেদনাও।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, টেক্সটাইল শুধু একটি শিল্পখাত নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। আর এই খাতের আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে আজকের তরুণ প্রকৌশলীরা। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু দক্ষ প্রকৌশলী নয়, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবেও নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক মো. আল-আমিন মোল্লা। তিনি বলেন, “জীবনের প্রতিটি ধাপে চ্যালেঞ্জ আসবে, কিন্তু আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও সততা থাকলে সাফল্য ধরা দেবে। আজকের এই বিদায় কোনো সমাপ্তি নয়, বরং নতুন যাত্রার সূচনা।”
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক খবিরুল হক চৌধুরী। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পাঠদান করে না, এটি মানুষ গড়ার কারখানা। এখানকার স্মৃতি ও শিক্ষা তোমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে শক্তি জোগাবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউনিফিল গ্রুপের আমান গ্রাফিক্স অ্যান্ড ডিজাইনস লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অফিসার কিরণ মোর্শেদ এবং প্রিটি গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার মুহাম্মদ মহসিন মিজি। তারা শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, ধৈর্য ও উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে দেশের টেক্সটাইল শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ইঞ্জি. মোহাম্মদ আব্দুল বাসেত। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “তোমরা শুধু এই বিভাগের শিক্ষার্থী নও, তোমরাই আমাদের গর্ব। ক্যাম্পাস ছেড়ে গেলেও এই সম্পর্ক কখনো শেষ হবে না।”
পরে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান, স্মৃতিচারণ, ফটোসেশন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থীর চোখে ছিল বিদায়ের অশ্রু, আবার সেই চোখেই ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। “ফাইবার টু ফিউচার” যেন শুধু একটি আয়োজন নয়, বরং একঝাঁক তরুণ স্বপ্নবাজের নতুন জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণার নাম।
পড়ুন:কাদেরসহ শীর্ষ ৭ নেতার বিচার: যুক্তিতর্ক শুরু আজ
দেখুন:ইরানের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ালো সৌদি আরব
ইমি/


