বিজ্ঞাপন

কালিহাতি থানার ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

টাঙ্গাইলের কালিহাতি থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে থানার অফিসার ইনচার্জ তৌফিক আজমের বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হয়রানি, চাঁদাবাজি, জমি দখলে সহায়তা ও বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী মামুন বলেন, ওনার ২টা ড্রাম ট্রাক ছিনতাই হওয়ার পর থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা না নিয়ে আদালতে যেতে বলেন।

ওসির বিরুদ্ধে সাংবাদিককে আটকের অভিযোগ
ওসি তৌফিক আজমের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় কর্মরত থাকাকালীন এক সাংবাদিককে থানায় ডেকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, ভয়ভীতি দেখানো এবং মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ওসি তৌফিক আজমের খুঁটির জোর কোথায় তা আমরা জানি না। ২০২৫ সালে আমি পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছি। কিন্তু দীর্ঘ ১০ মাসেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

জমি দখল ও মামলার অভিযোগ
এক নারী ভুক্তভোগী জমি দখলের ঘটনায় ওসিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেছেন। এরপরও তিনি স্বপদে বহাল থাকায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ওসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত ব্যক্তিদের সখ্যতা রয়েছে এবং তিনি অর্থের বিনিময়ে তাদের ছত্রছায়া দিচ্ছেন।

আইনশৃঙ্খলা অবনতির অভিযোগ এনে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার আবেদন
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। কালিহাতির সাতুটিয়া এলাকার বাসিন্দা ও “মেসার্স শিহাব এন্টারপ্রাইজ”-এর কর্ণধার এস এম মামুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, মশিউর রহমান সোহেল ও আশরাফুল আলম সুমনসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি ও হামলার মাধ্যমে হয়রানি করছেন। ভুক্তভুগি মামুনের দাবি, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ঢাকার কাওরান বাজারে ১২-১৬ জন সন্ত্রাসী নিয়ে তার কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। অস্বীকৃতি জানালে তাকে জিম্মি করে ৩০ টাকার অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন, যা বর্তমানে পিবিআই তদন্তাধীন। ১৮ এপ্রিল ২০২৬ রাতে ধলাটেংগর বালুরঘাট এলাকায় তার দুটি বালুবাহী ট্রাক আটক করে ৫০ হাজার টাকা ছিনতাই, ছেলে ও দুই ড্রাইভারকে অপহরণ করে মারধর এবং ট্রাক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। মামুন জানান, থানায় মামলা করতে গেলে তাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তিনি টাঙ্গাইল জজ কোর্টে সিআর মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।

ওসির বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ওসি তৌফিক আজম গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করছেন। বল্লা এলাকার ইউসুফ নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, “কালিহাতি থানার এক অফিসারের মাধ্যমে প্রতি ১৫ দিনে ১৫ হাজার টাকা দিতাম। এখন ওসি স্যার ৩০ হাজার টাকা দাবি করছেন। টাকা না দেওয়ায় আমার নামে একাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন, “আমার মতো আরও অনেক ভুক্তভোগী আছেন। ওসির ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তর্ক করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন।” স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ওসির বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালিহাতি থানার ওসি তৌফিক আজম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মনগড়া, মিথ্যা ও বানোয়াট। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, নিজের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসী চাঁদা বাজদের হাত থেকে বাঁচতে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ব্যবসায়ীদের আবেদন বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি তৌফিক আজম বলেন, এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বাভাবিক রয়েছে। বাকী বিষয় সম্পর্কে তিনি অবগত নয়। ড্রাম ট্রাক বিষয়ে তিনি বলেন, আদালতে কাগজপত্র দেখিয়ে তিনি গাড়ি নিতে পারবেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ​নিকুঞ্জে ‘লাল বাহিনী’র ত্রাস নূর হোসেন লাল গ্রেপ্তার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন