বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপে সুযোগ না পেলে কী করবেন নেইমার, জানালেন নিজেই

একের পর এক চোট, মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক, আর সবশেষ রেফারির ভুলের শিকার হওয়া—বিশ্বকাপ শুরুর আগে নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে নাটক তো কম হলো না। সান্তোসের ‘রাজপুত্রের’ কোটি ফুটবল ভক্তের বুক দুরুদুরু করা সেই অন্তহীন অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজই। স্কোয়াড ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে আজ বাংলাদেশ সময় দুইটায় এই নাটকের যবনিকা টানতে যাচ্ছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি, যেখানে ভাগ্য নির্ধারণ হবে সেলেসাওদের এই মহাতারকার।

বিজ্ঞাপন

সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে নেইমার কি পাচ্ছেন তাঁর ‘ওয়ান লাস্ট ড্যান্স’-এর টিকিট, নাকি মাঠের বাইরের সমীকরণেই শেষ হচ্ছে তাঁর বিশ্বকাপ স্বপ্ন? শেষ পর্যন্ত যদি মহোৎসবের এই বিশ্বমঞ্চে তাঁকে ছাড়াই পা রাখে ব্রাজিল, তবে কী করবেন নেইমার? গতকাল সান্তোসের ম্যাচ শেষে সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি মহাতারকা নিজেই দিয়েছেন তার এক সংক্ষিপ্ত ও পরিণত জবাব।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের চূড়ান্ত দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে বেশ বিনয়ী ও পরিণত অবস্থানই নিয়েছেন নেইমার। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড জানিয়েছেন, দলে বিবেচনার যোগ্য হয়ে উঠতে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন; তবে চূড়ান্ত দলে তিনি জায়গা পাবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপরই নির্ভর করছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ৩৪ বছর বয়সী সান্তোস তারকা নেইমার বলেন,

আমি দলে থাকার যোগ্য কি না, সেই সিদ্ধান্ত আনচেলত্তিই নেবেন। আমি এটার (সুযোগ পাওয়ার) জন্যই কঠোর পরিশ্রম করেছি। তবে যদি আমি নির্বাচিত নাও হই, তাহলেও আমি একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জন্য গলা ফাটাব।’

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বমঞ্চের জন্য আনচেলত্তি যখন তাঁর ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল থেকে চূড়ান্ত ২৬ জনের স্কোয়াড বেছে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই এমন মন্তব্য নেইমারের। ২০২৩ সালের হাঁটুর গুরুতর চোটের পর থেকে ফিটনেস সমস্যায় ভুগলেও, সান্তোসে ফেরার পর থেকে সম্প্রতি বেশ দারুণ ছন্দে রয়েছেন নেইমার।

অবশ্য কোচ আনচেলত্তিও বারবার পরিষ্কার করে বলেছেন যে, ব্রাজিলের এই আইকন নেইমারকে দলে রাখার সিদ্ধান্তটি তাঁর অতীত রেকর্ড বা আবেগের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হবে না; বরং এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে তাঁর বর্তমান পারফরম্যান্স এবং শারীরিক সক্ষমতার ওপর।

গুঞ্জন রয়েছে, নেইমারকে চূড়ান্ত দলে জায়গা দিতে গিয়ে চেলসির ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোকে বাদ পড়তে হতে পারে। দলে ফিরলেও অবশ্য একাদশের নিয়মিত মুখ হিসেবে নেইমারকে দেখার নিশ্চয়তা কিন্তু নেই। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দলে এথন অনেক তরুণ খেলোয়াড় পছন্দের তালিকায় এগিয়ে আছেন। তবে টুর্নামেন্টজুড়ে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো একজন কার্যকরী ‘ইমপ্যাক্ট সাবস্টিটিউট’ হিসেবে দলের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠতেই পারেন।

ব্রাজিলের ইতিহাসের এই সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দলে দেখতে চেয়ে সমর্থক থেকে শুরু করে তাঁর সাবেক সতীর্থরা যখন জোরালো দাবি তুলছেন, তখন অন্য পক্ষের যুক্তি একেবারেই ভিন্ন। তাদের মতে, সেলেসাওদের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বটা এখন তরুণ প্রতিভাদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার। আর তাই পুরো ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন একটি প্রশ্নের দিকেই—ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা কি তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার আরও একটি সুযোগ পাবেন?

পড়ুন:ইউক্রেনের নজিরবিহীন ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় নিহত ৪

দেখুন:যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ইরানের নজর পশ্চিমাদের দিকে?

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন