বিজ্ঞাপন

যৌতুকের বলি হয়ে ঘরছাড়া মা, পথে শিশুকে ছুড়ে ফেলে ধর্ষণচেষ্টা!

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার তেতুলিয়া কৈজানী নদীর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় এক মাস ৭ দিন বয়সী এক নবজাতক শিশুকে ছুড়ে ফেলে তার মাকে (২৪) ধর্ষণচেষ্টার এক বর্বরোচিত ও রোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মদন উপজেলার ৬০ বছর বয়সী এক মুদি দোকানদারকে যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

আটককৃত আসামির নাম আব্দুর রউফ মিয়া (৬০)। তিনি জেলার মদন উপজেলার বাসিন্দা এবং তেতুলিয়া ঘাট সংলগ্ন এলাকার একজন মুদি দোকানদার।

সোমবার (১৮ মে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেন কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)র মো. মেহেদী মাকসুদ। এরআগে, গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে কান্দিউরা ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের কৈজানী নদীর ঘাট সংলগ্ন গিয়ালী খালের পাশে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ওই নারী সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রগা ইউনিয়নের নূরনগর গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় এক বছর আগে নেত্রকোনার মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নায়েকপুর গ্রামের রিপন মিয়ার (৩০) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাদের কোলজুড়ে আসে এক মাস ৭ দিন বয়সী নবজাতক শিশু। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ১৫ মে স্বামী রিপন মিয়া আনোয়ারাকে একতরফাভাবে ডিভোর্স (তালাক) দেন।

ডিভোর্সের পর অসহায় হয়ে পড়া আনোয়ারা গত ১৭ মে বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে তার এক মাস ৭ দিনের নবজাতক শিশুকে নিয়ে নায়েকপুর থেকে বাবার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে কৈজানী নদী পার হয়ে তেতুলিয়া ঘাটে পৌঁছান তিনি। সেখানে ঘাট সংলগ্ন মুদি দোকানদার আব্দুর রউফ মিয়ার দোকানে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে মুদি দোকানদার আব্দুর রউফ মিয়া আনোয়ারাকে রাতে একা ভ্রমণ না করে তার বাড়িতে থেকে পরদিন সকালে রওনা দেওয়ার পরামর্শ দেন। সরল বিশ্বাসে অসহায় ওই নারী শিশু ও ব্যাগ নিয়ে রউফের সঙ্গে রওনা হন। কিন্তু পথে গিয়ালী খালের পাশের এক নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে আব্দুর রউফ তাকে কুপ্রস্তাব দেন এবং শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করেন।

ভুক্তভোগী এতে রাজি না হয়ে চিৎকার ও বাধা দিলে, লম্পট আব্দুর রউফ ক্ষিপ্ত হয়ে মায়ের কোল থেকে দুধের শিশুটিকে নির্মমভাবে ছুড়ে ফেলে দেন। এরপর দেশীয় অস্ত্র রামদা উঁচিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টা চালান।

ধর্ষণচেষ্টাকালে কাছাকাছি এলাকায় বরশি দিয়ে মাছ ধরতে আসা এক ব্যক্তির উপস্থিতি টের পেয়ে ভুক্তভোগীর কৌশলে লম্পটের হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করে দৌড়ে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া বাজারে গিয়ে তিনি চিৎকার করে স্থানীয়দের বিস্তারিত জানান।

ঘটনা শুনে স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযানে নামেন। ঘটনার প্রায় পৌনে ঘটনার পর পার্শ্ববর্তী একটি পাটক্ষেত থেকে ক্রন্দনরত ও অক্ষত অবস্থায় নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে বাজারে নিয়ে আসা হয়।

খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি জানান, ভুক্তভোগী মা ও শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। পরবর্তীতে কেন্দুয়া ও মদন থানা পুলিশের যৌথ দল সোমবার সকালে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রউফ মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

ওসি মেহেদী মাকসুদ আরও জানান, “এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামি আব্দুর রউফকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। সৌভাগ্যবশত, নবজাতক শিশু ও ভুক্তভোগী নারীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পড়ুন:রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ

দেখুন:যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ইরানের নজর পশ্চিমাদের দিকে?

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন