নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বছরের পর বছর বদলি না হয়ে একই জায়গায় কর্মরত থাকায় সেবার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এক যুগেরও বেশি সময়, এমনকি কেউ কেউ প্রায় তিন দশক ধরে একই কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এতে করে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
দপ্তরের বর্তমান জনবল ও তাদের যোগদানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের এক চমকপ্রদ চিত্র পাওয়া গেছে। উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) মো. সারুয়ার জাহান তিনি ১৯৯৯ সালের ৫ এপ্রিল দপ্তরে যোগদান করেন। সেই হিসাবে তিনি প্রায় ২৭ বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। ড্রেসার মো. শাজাহান কবির, ২০০৯ সালের ২৬ এপ্রিল যোগদান করে বর্তমানে তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে একই অফিসে রয়েছেন। উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণীস্বাস্থ্য) মো. সুরুজ আলী, ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর যোগদান করে প্রায় ১৬ বছর ধরে কর্মরত আছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কনিকা সরকার তিনি ২০২১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি যোগদান করেন এবং প্রায় ৫ বছর ৩ মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। এফএ (এ/আই) সুলতান মাহমুদ তিনি ২০১৯ সালের ২০ জুন যোগদান করে ৬ বছর পার করেছেন। তবে তিনি ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ময়মনসিংহ ভিটিআইয়ে ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সে অধ্যয়নরত। ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হারুন আর রশিদ, ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর যোগদান করে প্রায় ৭ বছর ৭ মাস ধরে কর্মরত। বর্তমানে তিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সিলেটে আইএলএসটি’র ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সে রয়েছেন। একই তারিখে যোগদান করা আকিজা খাতুন বর্তমানে ঢাকায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে প্রেষণে কর্মরত।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র দুজন নতুন মুখ এই দপ্তরে যুক্ত হয়েছেন। ভেটেরিনারি সার্জন ডা. লুৎফুল কবীর ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি (প্রায় ৩ মাস) এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক রাহাত উল্লাহ ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল যোগদান করে মাত্র ২৫ দিন ধরে কর্মরত আছেন।
দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তিদের উপস্থিতির পাশাপাশি দপ্তরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ- ইউএলএ এবং অফিস সহায়ক (পিওন) দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। এতে করে দাপ্তরিক কাজে বাড়তি ব্যাঘাত ঘটছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি অফিসে দীর্ঘসময় একই ব্যক্তিদের অবস্থান প্রশাসনিক গতিশীলতাকে মন্থর করে দেয়। এটি অনেক সময় দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে এবং জবাবদিহিতার মারাত্মক সংকট সৃষ্টি করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতা জানান, “দীর্ঘদিন ধরে একই লোকজন থাকায় তাদের মধ্যে একচেটিয়া আধিপত্যের সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। নির্দিষ্ট সময় পরপর নিয়মিত বদলি হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসত এবং সেবার মান উন্নত হতো।”
এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিজীবীদের বদলি এবং পদায়নের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় পর্যায় থেকে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।
জনস্বার্থে এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর সেবাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সময়োপযোগী প্রশাসনিক পদক্ষেপ তথা নিয়মমাফিক বদলি কার্যকর করার জোর দাবি জানিয়েছেন কলমাকান্দার সচেতন নাগরিক সমাজ।
পড়ুন : মোটরসাইকেলে অগ্রিম আয়করের প্রতিবাদে নেত্রকোনায় রাইডারদের মানববন্ধন


