নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় পানিতে ডুবে রূপসা নামের এক শিশু কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে উপজেলার সহিলদেও গ্রামের পার্শ্ববর্তী ধলাই নদী থেকে ওই শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। যে নদীকে কেন্দ্র করে শিশুটির বাবার জীবন-জীবিকা আবর্তিত, সেই নদীতেই আদরের সন্তানের এমন সলিল সমাধিতে পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত শিশু রূপসা মোহনগঞ্জ উপজেলার সহিলদেও গ্রামের বাসিন্দা ছোটন মিয়ার মেয়ে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রূপসার বাবা ছোটন মিয়া পেশায় একজন জেলে। তিনি বাড়ির পাশের ধলাই নদীতে মাছ শিকার করে সংসারের ঘানি টানেন। প্রতিদিনের মতো এদিন সকালেও তিনি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। অন্যদিকে, রূপসার মা বাড়ির দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, মায়ের অগোচরে খেলতে খেলতে বাড়ির কাছের ধলাই নদীর পাড়ে চলে যায় শিশু রূপসা এবং একপর্যায়ে পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়।
বিকেলে কাজ শেষে বাবা ছোটন মিয়া বাড়িতে ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খুঁজতে শুরু করেন। বাড়ির আশেপাশে, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। মেয়ের এমন আকস্মিক নিখোঁজে চারদিকে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ির অদূরে সেই ধলাই নদীতেই রূপসার নিথর দেহ ভাসতে দেখেন স্বজনরা। দ্রুত তাকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে প্রাণপাখি উড়ে যায় মহাশূন্যের অতল গহ্বরে।
যে ধলাই নদীর পানিতে জাল ফেলে ছোটন মিয়া সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দেন, আজ সেই নদীতেই নিজের বুকের ধনের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। আদরের সন্তানকে হারিয়ে রূপসার বাবা-মা দুজনই এখন প্রায় বাকরুদ্ধ। তাদের গগনবিদারী আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় সহিলদেও গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান হারুন জানান, “পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পড়ুন : http://কেউ ২৭ বছর, কেউ ১৬ বছর: কলমাকান্দায় প্রাণিসম্পদ দপ্তরে থমকে আছে বদলি


