দুই মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত। বুধবার (২০ মে) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। গত ১৩ মে এসব মামলায় তার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়েছিল।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরবর্তীতে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা হয়। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় একটি মামলার করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। পাশাপাশি ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া।
একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা। এছাড়াও প্লট জালিয়াতির ঘটনায় দুর্নীতির অভিযোগে ৪ আগস্ট তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুরের পর তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট ৫ মামলায় সাবেক এই প্রধান বিচারপতির জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। একপর্যায়ে গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল মঞ্জুর করে ৪ মামলায় তাকে জামিন দেন।
পরবর্তীতে ১১ মার্চ দুদকের মামলায়ও জামিন পান তিনি। তবে এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। এরপর ২৮ এপ্রিল জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।
তবে এর মধ্যে নিম্ন আদালতে জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর থানার দু’টি হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে নিম্ন আদালতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তিনি। এরপর গত ১২ মে গণঅভ্যুত্থানের সময়ে সংঘটিত এই দু’টি হত্যা মামলায় তাকে জামিন দেন হাইকোর্ট।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

