বিজ্ঞাপন

নিকুঞ্জ-টানপাড়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে সেই সুইসগেট অবশেষে অপসারণের উদ্যোগ

রাজধানীর নিকুঞ্জ টানপাড়া, জামতলা ও এয়ারপোর্ট সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি পুরোনো সুইস গেট অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পর স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীরের হস্তক্ষেপে বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টি হলেই নিকুঞ্জ টানপাড়া, জামতলা ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে রাস্তাঘাট তলিয়ে যেত। অনেক সময় কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই দিনের পর দিন পানি আটকে থাকত। এতে ঘরবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতো। বিশেষ করে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র আউটগোয়িং পথটি সুইস গেটের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় বলে জানান এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের পর বছর বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন, স্মারকলিপি ও যোগাযোগ করেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। পরে এলাকাবাসী বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীরের নজরে আনেন। বুধবার তিনি সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শনে যান এবং সুইস গেটটি ঘুরে দেখেন।

এ সময় স্থানীয়রা তাকে দেখান, কীভাবে গেটটির কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং হাজারো মানুষ জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন। পরে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত গেট অপসারণ এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী মনে করছেন, সুইস গেটটি অপসারণ করা হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অনেক বেশি কার্যকর হবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল, ধর্মীয় কার্যক্রম, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির আহ্বায়ক ও জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল বলেন, “এটি শুধু একটি গেট অপসারণের বিষয় নয়; এটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা আশা করছি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মানুষ স্থায়ী সমাধান পাবে।”

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার পর অবশেষে সমস্যাটি সমাধানের পথে এগোচ্ছে। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কাজ সম্পন্ন করলে নিকুঞ্জ টানপাড়া ও আশপাশের এলাকা জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবে।

পড়ুন: বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শুরু আজ

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন