মেহেরপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিদেশি জাতের আঙ্গুর চাষ। বিশেষ করে রাশিয়ান বাই কুনুত জাতের আঙ্গুর চাষে কৃষকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। অল্প খরচে অধিক লাভের সম্ভাবনা থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা এখন আঙ্গুর চাষে ঝুঁকছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাত্র ১০ শতক জমিতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করেই আঙ্গুর চাষ শুরু করা যায়। সঠিক পরিচর্যা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে একই জমি থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। ফলে কম জমিতে বেশি লাভের সম্ভাবনায় নতুন করে অনেক কৃষক এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
মুজিবনগর উপজেলার কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তিনি প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে অল্প পরিসরে আঙ্গুর চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরের ফলন ভালো হওয়ায় এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন। একই উপজেলার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, আঙ্গুর চাষে খরচ তুলনামূলক কম, তবে বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় লাভ বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
গাংনী উপজেলার কৃষক আব্দুস সালাম জানান, তিনি ১০ শতক জমিতে রাশিয়ান বাই কুনুত জাতের আঙ্গুর চাষ করেছেন। সঠিক পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান। একই উপজেলার কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, কয়েকজন সফল চাষির ভালো ফলন দেখে তিনি উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এবং আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে আঙ্গুর চাষের পরিকল্পনা করছেন।
এলাকাবাসীদের মতে, সফল চাষিদের ভালো ফলন ও আয় দেখে অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে দিন দিন মেহেরপুর, মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলায় আঙ্গুর চাষের বিস্তার বাড়ছে। কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলে নতুন ফসল হিসেবে আঙ্গুর এখন সম্ভাবনাময় একটি খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গাংনী উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাশেদ জামান জানান, পরীক্ষামূলকভাবে দুই বছর আগে কিছু চাষি আঙ্গুর চাষ শুরু করেন। প্রথম দিকের ফলন আশানুরূপ হওয়ায় এখন অনেক কৃষক এই চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তিনি বলেন, অল্প জায়গায় বেশি ফলন উৎপাদনের সুযোগ থাকায় আঙ্গুর চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, আঙ্গুর চাষ এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চলতি বছরে মেহেরপুর জেলায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে আঙ্গুর চাষ হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক প্রশিক্ষণ, উন্নত জাত নির্বাচন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে আগামীতে এই অঞ্চলে আঙ্গুর চাষ একটি লাভজনক বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হতে পারে।
পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে করা রিট খারিজ
আর/


