তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় সবচেয়ে বড় ইস্যু ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এ ইউরেনিয়াম তাদের হাতে হস্তান্তর করতে হবে। ইরান ওই ইউরেনিয়াম রাশিয়ার কাছে রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বলেও খবর বের হয়েছিল। এবার দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, এ ইউরেনিয়াম তারা দেশেই রাখতে চান। এর মাধ্যমে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবির বিষয়ে তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর হলো।
দুজন ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে। গণমাধ্যমটি লিখেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা একটি নির্দেশ জারি করেছেন– দেশের প্রায় অস্ত্র-গ্রেড ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো যাবে না। আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির এ আদেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও হতাশ করতে পারে এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ করার আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ট্রাম্প ইসরায়েলকে আশ্বাস দিয়েছেন– পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ইরানের বাইরে পাঠানো হবে; যে কোনো শান্তিচুক্তিতে এ বিষয়ে একটি ধারা অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। সূত্র জানায়, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, এ উপাদান বিদেশে পাঠালে দেশটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের মুখে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।
এ অবস্থায় নতুন হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে ইসরায়েল– এমন খবরও দিচ্ছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। অন্যদিকে, যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান চাচ্ছে আবার তা শুরু না হোক। এ অবস্থায় চাপে উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত আছে। গতকাল জিও টিভি অনলাইন জানায়, তেহরান সফররত পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি সেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ওয়াশিংটনের নতুন প্রস্তাবের পর্যালোচনা চলছে।
আলজাজিরা জানায়, এ অবস্থায় রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা গতকাল বলেছেন, ইরানের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমেই কেবল ইরান সংকটের সমাধান করা সম্ভব। এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নিজেদের ইউরেনিয়াম মজুতের ভাগ্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত একমাত্র ইরানকেই নিতে হবে।
আলজাজিরার সাইমন স্পিকম্যান কর্ডাল জানান, শান্তিচুক্তিতে রাজি না হলে ইরানের ওপর আবার বোমা হামলা চালানোর হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে এলেও ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহল যুদ্ধের জন্য মুখিয়ে আছে। ইসরায়েলের ডানপন্থি চ্যানেল ১৪-এর উপস্থাপক শিমন রিকলিন তেহরানের ওপর পুনরায় হামলা চালানোর বিষয়ে আপাতদৃষ্টিতে গোপন কিছু পরিকল্পনা ফাঁস করে দেন, যার মধ্যে একটি ইউরেনিয়াম মজুত কেন্দ্রের অবস্থানও ছিল, যেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার দুই নেতার মধ্যে এক উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপে এ মতবিরোধের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
গালফ নিউজ জানায়, ইরান যুদ্ধে বোমারু বিমান, ড্রোন, নজরদারি বিমান, জ্বালানি সরবরাহ বিমানসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অন্তত ৪২টি বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ নির্ধারণের প্রক্রিয়ার মতো নানা কারণে এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পড়ুন:জাতিসংঘে জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রস্তাব পাস
দেখুন:ব্রিটিশ রাজপরিবারে নতুন করে বিতর্কের ঝড়!
ইমি/


