বিজ্ঞাপন

২৮ বছরেও সেবার মান নিশ্চিত করতে পারেনি চারঘাট পৌরসভা

১৯৯৮ সাল থেকে চারঘাট পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়। চারঘাট সূচনা লগ্নে পৌরবাসীর সেবার বিষয়ে তেমন কোন দাবি না থকালেও বর্তমান আধুনিক ও ডিজিটাল সময়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে এই পৌরসভা। খাতা কলমে “ক” শ্রেনীর হলেও বাস্তবরূপ তার প্রমান বহন করে না। ২৮ বছর পার হলেও এখনো সেবার মান নিশ্চিত করতে পারেনি পৌরসভা। বিবিধ অনিয়েমে জর্জড়িত।

বিজ্ঞাপন

৯ জুলাই ১৯৯৮ সাল প্রকৃতিতে ছিল বর্ষাকাল। প্রমত্তা পদ্মায় মৃদু মন্দ ঢেউ-এ ছিল খুশির নাচন। ঠিক এমনই মাহেন্দ্রক্ষণে চারঘাট উপজেলার ০৫ নং চারঘাট ইউনিয়নের ১০টি মৌজার ১৮.৭৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে ৯টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল চারঘাট পৌরসভা। প্রতিষ্ঠাকালীন চারঘাট ‘গ’ শ্রেনির পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিগত ৩১ মে ২০১১ তারিখে ‘খ’ শ্রেনির পৌরসভায় এবং সর্বশেষ বিগত ১১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে ‘ক’ শ্রেনীর পৌরসভায় উন্নীত হয়।

চারঘাট পৌরসভা বাংলাদেশের পশ্চিমাংশে রাজশাহী জেলাধীন অন্যতম প্রসিদ্ধ নদী প্রমত্তা পদ্মার তীর ঘেঁষে লম্বা-লম্বি অবস্থান করছে। পৌরসভাটি রাজশাহী জেলা শহর হতে প্রায় ৩০.০০ কিলোমিটার দক্ষিন-পূর্বে ২৪ ডিগ্রি ১৪’ হতে ২৪ ডিগ্রি ২২’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ ডিগ্রি ৪৬’ হতে ৮৮ ডিগ্রি ৫২’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ভৌগলিক সীমা রেখার মধ্যে অবস্থান করছে। পদ্মা নদীর ওপাড়ে রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদীয়া জেলা। চারঘাট পৌর এলাকার উত্তরে সরদহ ও ইউসুফপুর ইউনিয়ন , দক্ষিনে চারঘাট ইউনিয়ন, পশ্চিমে পদ্মা নদী এবং পূর্বে ভায়ালক্ষ্মীপুর ও সরদহ ইউনিয়ন অবস্থিত।

এই পৌরসভায় মোট সড়ক ১২৫ কি.মি; (বিসি-৮১.০০ কি.মি. , আরসিসি/সিসি-৯.৫০ কি.মি. কাঁচা সড়ক ২৪.৫০ কি.মি, এইচবিবি-২.৭৫ কি.মি., বিএফএস- ৩.২৫ কি.মি, ডাবি¬উবিএম ৪.০০ কি.মি.), মোট ড্রেন ৪২ কি.মি (আরসিসি ১৯.৯৩ কি.মি. ব্রিকম্যাসনরি ৪.২৮ কি.মি, কাঁচা ১৭.৭৯ কি.মি), ব্রীজ- ০৮টি, কালভার্ট ১৪ টি, পানির পাইপ লাইন- ৩০ কি.মি. উৎপাদক নলকূপ- ০৬ টি, পাবলিক টয়লেট- ৫৩ টি, অনুমোদিত বস্তি-১৪ টি। তবে ২০২৬ সালে উন্নয়নে কিছু পরিবর্তন হয়েছে।

জনশ্রুতী আছে প্রাচীন কালে পদ্মা নদীর চারটি স্টীমার ঘাটের মাধ্যমে এখানকার ব্যবসা বানিজ্য পরিচালিত হতো , এজন্য কাল ক্রমে এ জনপদের নাম চারঘাট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

চারঘাট পৌর পরিসীমার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী অবিভিক্ত ভারত বর্ষের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যা বাংলাদেশ উত্তরাধিকার সুত্রে পেয়েছে এবং পাকিস্থান আমলে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ। এছাড়া রয়েছে সরদহ সরকারী কলেজ, সরদহ সরকারী পাইরট উচ্চ বিদ্যালয়, চারঘাট এম এ হাদী ডিগ্রী কলেজ, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যালয় , চারঘাট মডেল থানা , চারঘাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানাপাড়া সোয়ালোজ । এছাড়া সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য রয়েছে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বীর সেনানী বিজিবির চৌকষ দলের সমন্বয়ে বিজিবি ক্যাম্প।

প্রথম শ্রেনীর পৌরসভায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ২৫.৫৯শতাংশ , কৃষিজীবি ও খামারী ২২.৪৩ শতাংশ, সরকারী চাকুরীজীবি ১০.৮২ শতাংশ, দক্ষ শ্রমিক -৮.৯৭ শতাংশ , বেকার ৮,৭১ শতাংশ , বেসরকারী চাকুরীজীবি -৫.০১ শতাংশ , অদক্ষ শ্রমিক-৪.২২ শতাংশ , রিক্সা ভ্যানচালক ৩.৬৯ শতাংশ ,শিক্ষক-৩.৭১ শতাংশ,গৃহপরিচারিকা ২.৬৪ শতাংশ, বড়ব্যবসায়ী -২.৬৩ শতাংশ, হস্তশিল্প-০.৭৯% , শিক্ষার্থী -০.৫৩% এবং হকার ০.২৬ শতাংশ।

“ক” বা প্রথম শ্রেনীর পৌরসভার রের্কড ক্রমে মোট ড্রেন ৪২ কি.মি. থাকলেও ব্যবহারযোগ্য ড্রেন ব্যবস্থাপনায় নেই কোন সুবিধা। নোংড়া পানি, ময়লা আর মশাসহ বিভিন্ন ধরনের পোকা মাকঁড়ের ভাগার। পৌরসভায় মোট সড়ক ১২৫ কি.মি যথাযথ রয়েছে কিন্ত টেকশয় নিয়ে থেকে যায় অনেক প্রশ্ন। বর্তমান সরকারের দলিয় তদবিরে ঠিকাদারিত্ব নৈরাজ্যের মাধ্যমে দখলে রয়েছে সকল ট্রেন্ডার। তাদের নিজেস্ব লিংকে কাজ গুলো হাত বদলে ২ বছরেও টেকশয় হচ্ছে না। রাজশাহী সড়ক জনপথ দপ্তররের অধীনে বানেশ^র থেকে ঈশ^রদী পর্যন্ত বাইপাস মাহাসড়কে নির্মাণে এই পৌরসভার সিংহভাগ সড়ক, ব্রীজ ও ড্রেন ধ্বংস হয়েছে। যার কোন সঠিক তথ্য পৌরসভায় রক্ষিত নেই। ইউজিপ এর কোটি কোটি অর্থ ধুলই মিলে গেছে। যার ভোগান্তি এবং অর্থের ক্ষতির ভাগ জনগনের মাথার উপরে।

পৌরবাসী দিনের বেলায় তাদের কাজের সন্ধানে বের হলেই সড়ক ও জনপথের নির্মিত কালো পিজ ঢালা সড়কে তাদের গন্তবে যেতে পারছে। তবে সন্ধায় এবরো থেবরো সড়ক, ড্রেনের পচাঁ পানির গন্ধ আর ঘুট ঘুটে অন্ধকারে নিজ গৃহে প্রবেশ করতে হয়। সড়ক সংলগ্ন বাড়ি গুলো তাদের উচ্ছিষ্ট পানি ড্রেনে অপসারন করতে পারলেও পিছনের বাড়ি গুলো ওই সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। রাতের পৌরসভা একটু ভিন্ন। চারঘাট পৌরসভার সদর এলকায় কিছু আলোর ব্যবস্থা থাকলেও কিছু ল্যাম্পপোষ্টের আলো জলছে, কিছু মৃদ আলো আর বেশির ভাগ আলোর দেখা মিলে রাতের চাঁদের আলোতে। সুপ্রিয় পানির ব্যবস্থা থাকলেও সকল পৌরবাসী তার ভোগ করতে পারছে না। পৌর আইন বাস্তবায়ন হলে অপ্রতুল সেবা গুলো নিতে পারবে স্থানীয়রা। এটাই “ক” শ্রেনীর পৌরসভা।

শুধু পরিবর্তন হয়েছে পৌরকার্যালয়ের, কার্যালয়ে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে নিজ দলের এবং স্বজনদের। সব মিলিয়ে সেবার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। পৌর বাসীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিছু অর্থের বিনিময়ে ময়লা সংগ্রহ করছে এবং তা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলছে। ডিজিটাল জন্ম-মৃত্যু কার্ডসহ যাবতিয় সেবা ডিজিটাল হয়েছে। পৌরবাসীর নতুন বাড়ি নির্মাণে নীতিমালা থাকলেও যে যার মতো বাড়ি নির্মাণ করছে। পৌর এলাকার মধ্যে সরকারী জমি গুলো দখল করে নিয়ে অনেকে স্থাপনা নির্মান করছে, কেউবা বিভিন্ন কৌশলে নিজের দখলে রেখেছে সরকারী সম্পদ। বরাদ্দ নিয়ে তেমন জটিলতা না থাকলেও বাস্তবায়নে রয়েছে কোটি কোটি টাকার জটিলতা। এই বিষয়ে, গত ৫ আগষ্টকে অভিযোগ দিয়ে জবাবদিহিতায় কেউ নেই।

এই বিষয় গুলো নিয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ তথ্য সঠিক এবং তার প্রমান বহন করছে নিম্ন মানের নির্মাণ উপকরনের মালামাল। স্থানীয়রা বলছেন, প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা হিসাবে তারা সেবা পাচ্ছেন না। ঠিকাদার তাদের ইচ্ছে স্বাধীন মতো কাজ করে যাচ্ছে। এর প্রতি উত্তরে মতিন ঠিকাদারসহ অনেক গনমাধ্যমকে বলেন, তারা বর্তমান পৌর প্রকৌশলীর তদারকিতে কাজ করছেন ।

প্রসঙ্গত, পৌর প্রকৌশলী আতাউর রহমান গনমাধ্যমকে জানান, নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদার তাদের তারা নির্মাণ কাজ করছে। দায়িত্বরত পৌর ঠিকাদাদের কাজ পরিচালনা করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি। সর্বশেষ প্রকৌশলী বলেন, প্রশাসকের সকল বিষয়ে অবগত আছেন।

চলমান দায়িত্ব নিয়ে বর্তমান পৌর প্রশাসক ও ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, পৌরসভা কর্তৃক সার্বিক সেবার মান নিশ্চিতের লক্ষে সকল কর্মকর্তা একসঙ্গে কাজ করছে। এলাকায় অনেক সমস্যা আছে, তেমনি লোকবল কম রয়েছে। স্থানীয় কিছু লোকের কারনে ড্রেনের পানি অপসরন করা যাচ্ছে না, সু-প্রিয় পানি সরবরাহের লাইন সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না, বাড়ি নির্মাণে সময় পৌরসভার অনুমতি নিচ্ছে না, ভ্যাট-ট্রক্স ঠিকমত দিচ্ছে না।

“ক” শ্রেনীর পৌরসভা নিয়ে তিনি বলেন, রাজস্ব আয় ০১ কোটি বা তার বেশি, ট্রাক্স পৌর কর ৮০শতাংশ বেশি এবং পৌরসভার সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন-ভাতা পরিষোধ যোগ্য হতে হবে। সম্প্রতী সরা বাংলাদেশে ৬৩টি পৌরসভায় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (আইইউজিপি) এর মাধ্যমে নগর উন্নয়ন কাজ চলামান রয়েছে।

পড়ুন- স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন