ঈদকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠছে সুন্দরবনের জলদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। জেলেদের সূত্রে জানা গেছে জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যদের গায়ে পরিহিত কালো রংয়ের গেঞ্জির সামনের অংশে লেখা মানবতা ফাউন্ডেশন এবং পিছনে বড় অক্ষরে লেখা সৌজন্যে জাহাঙ্গীর ভাই।
গত মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন সংলগ্ন কটকা এলাকা থেকে উল্লেখিত জাহাঙ্গীর বাহিনী ১১টি মাছধরা ট্রলারের রসদ সামগ্রী লুট করে ৩৯ জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে। এ সময় কয়েকজন জেলে প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাপ দিয়ে পালিয়ে আসে। পালিয়ে আসার সময় জেলেরা বনদস্য বাহিনীর ব্যবহৃত একটি গেঞ্জি নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। ওই গেঞ্জির সামনের অংশে লেখা মানবতা ফাউন্ডেশন এবং পিছনে বড় অক্ষরে লেখা সৌজন্যে জাহাঙ্গীর ভাই। তবে ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অপহৃত জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
দস্যুতার সময় সুন্দরবনের খালে লুকিয়ে পলিয়ে আসা কয়েকজন জেলে বৃহস্পতিবার পাথরঘাটার বাড়িতে ফিরে সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রুহিতা গ্রামের ট্রলারমালিক কালাম মিয়ার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সুন্দরবনের কটকা স্টেশনের কেওড়াতলা এলাকায় মঙ্গলবার রাতে বাধা/ বেহুন্দি জালের কয়েকটি ট্রলার অবস্থান করছিলো। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড় ভাই জাহাঙ্গীর বাহিনী ওরফে কাটুন বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা সেখানে হানা দেন। ২৫ থেকে ৩০ জন দস্যুর সবার হাতেই বিদেশি অস্ত্র ছিলো।
কালাম মিয়া বলেন, প্রথমে ওরা তাঁর ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ট্রলারের কিছু জেলে খালের পড়ে পলিয়ে আসেন। তবে অন্য ৪ জেলেসহ ট্রলারটি আটক করে। পরে দুটি ট্রলারে ভাগ হয়ে জলদস্যুরা চারটি ট্রলার জব্দ করে। ট্রলারগুলো থেকে রসদ সামগ্রীসহ ১২ জন জেলেকে উঠিয়ে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেন। বুধবার রাতে একইভাবে ৮টি ট্রলার থেকে ২৭ জন ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এদিকে কয়েকটি জেলে পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের মোবাইল ফোন নম্বরে মুক্তিপণ চেয়ে কল এসেছে। প্রতি একজন জেলের জন্য দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে দস্যুরা। এসব জেলে পরিবারের কোনো সদস্যই নাম প্রকাশে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, যদি দস্যুরা জেনে যায়, কোন জেলের স্বজনেরা এসব তথ্য দিয়েছেন, তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হবে।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছগির আলম বলেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি অপহৃত জেলেদের বিষয়ে বুধবারই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি দু/একদিনের মধ্যে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা দিয়েছেন।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অপহরণের সংবাদ পেয়ে জেলেদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি।
এদিকে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া সেলের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থল কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলার আওতাধীন। তাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন। ইতোমধ্যে দুটি দল অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে চেষ্টা করছে।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল জানিয়েছেন, এসব জেলেদের উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনে কাজ করছেন।
বরগুনা জেলা মৎস্য ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিকে অবগত করা হয়েছে এবং তিনি এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছেেন।
গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জেলে অপহরণের ঘটনায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতংক ছড়িয়ে পড়ছে তিনি এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।
পড়ুন : নিহত মুমিনের বাড়িতে এমপি মান্নান, সর্বোচ্চ বিচারের আশ্বাস


