বিজ্ঞাপন

ঈদুল আজহা সামনে, তবুও আনন্দহীন ভৈরবের বেদেপল্লী

ঈদুল আজহা আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। সারা দেশে যখন উৎসবের আমেজ, তখন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বেদেপল্লীতে নেই কোনো আনন্দের ছোঁয়া। নতুন জামা কিংবা কোরবানির স্বপ্ন—সবই যেন অধরা এখানকার বাসিন্দাদের কাছে।

বিজ্ঞাপন


দারিদ্র্য আর কর্মসংস্থানের অভাবে দিন কাটছে এই বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের। অনেক পরিবারই এখনো ঠিকমতো দৈনন্দিন খাবারের ব্যবস্থা করতে পারছেন না। ফলে ঈদ তাদের কাছে বাড়তি আনন্দ নয়, বরং বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সময় সাপ খেলা, ওঝাগিরি ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসাই ছিল তাদের আয়ের প্রধান উৎস। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এসব পেশা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় তাদের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে দিন দিন বাড়ছে দারিদ্র্যের চাপ।
বেদেপল্লীর বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন বলেন, “বাচ্চাদের নতুন জামা কিনে দিতে পারি না। ঈদ আসলে ওরা অনেক কিছু চায়, কিন্তু আমরা কিছুই দিতে পারি না।”
আরেক বাসিন্দা আব্দুল করিম জানান, “আগে কিছু না কিছু আয় ছিল। এখন কাজ নেই। কোরবানি তো দূরের কথা, সংসার চালানোই কষ্ট হয়ে গেছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করলে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন সম্ভব নয়। শুধু ঈদের সময় সহায়তা নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।


এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম.মামুনুর রশীদ বলেন, “বেদেপল্লীর মানুষের বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। তাদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অসহায় পরিবারের মাঝে সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”


স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এই অবহেলিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো হলে অন্তত ঈদের সময়টুকুতে কিছুটা হলেও হাসি ফিরতে পারে তাদের মুখে।

পড়ুন- মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশু ধর্ষণ: প্রথমবারের মতো ২৯ কার্যদিবসে আসামির ফাঁসির রায়

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন