“সন্তান আমার, রাষ্ট্রের নয়” এমন হৃদয়স্পর্শী বাক্য লিখে চার বছরের কন্যা সন্তানের নিরাপত্তার স্বার্থে বৈধভাবে একটি শটগান বরাদ্দ চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে করা একটি আবেদনের কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
আবেদনটি করেছেন বরগুনার আমতলী উপজেলার এক বাবা। তার আবেদনপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও মানবিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া আবেদনটিতে আবেদনকারী মাসুদুল ইসলাম বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ডালাচারা গ্রামের বাসিন্দা উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর বরাবর পাঠানো তার আবেদনে দেশে শিশুদের প্রতি বাড়তে থাকা সহিংসতা, নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরে নিজের কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, “কিছু বছর যাবৎ শিশুদের প্রতি বর্বরতার চিত্র ও তা নিয়ে রাষ্ট্রের উদাসীনতা দেখে আমি আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবন পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছি।”
তিনি আরও লেখেন, “বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণে দেখলাম সন্তান আমার, রাষ্ট্রের নয়। তাই রাষ্ট্রের কাছে তার নিরাপত্তা চেয়ে মহামান্যদের উপভোগ্য ক্ষমতার মহামূল্যবান সময় নষ্ট করে নিজেকে কলুষিত করবো না।”
মাসুদুল ইসলামের ভাষ্য, তিনি কোনো অবৈধ অস্ত্র নয়, বরং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় একটি শটগান নিজের নামে বরাদ্দ চান, যাতে প্রয়োজনে নিজের সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন।
তবে এ ব্যাপারে বিভিন্ন মাধ্যমে আবেদকারীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, এটি কেবল একটি অস্ত্রের আবেদন নয়, বরং একজন অসহায় বাবার ভেতরের ভয়, হতাশা ও রাষ্ট্রের প্রতি আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদনপত্রটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে এটিকে বর্তমান সামাজিক বাস্তবতার প্রতীক হিসেবেও উল্লেখ করছেন।
বরগুনা সদরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনোতোষ রায় বলেন, “একজন বাবা যখন নিজের সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে এতটা আতঙ্কিত হয়ে অস্ত্র চেয়ে আবেদন করেন, তখন বুঝতে হবে সমাজে ভয় কতটা বেড়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।”
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পড়ুন : কুড়িগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত হলেন রওশন আরা বেগম


