শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে তিনটি কোরবানির গরুর মাংস ১২০০ শত অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের বিএল স্কুল মাঠে এই মাংস বিতরণ কার্যক্রমের আয়োজন করেন হাজী আব্দুস সাত্তার।
এ উপলক্ষে প্রথমে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানুষের কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে তিনটি কোরবানির গরুর মাংস বিতরণ করা হয়।
মাংস নিতে আসা মানুষের দীর্ঘ সারিতে ছিল নানা শ্রেণি-পেশার অসহায় মানুষ। অনেকে সকাল থেকেই মাঠে এসে অপেক্ষা করেন। বিতরণ কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবকরা শৃঙ্খলার সঙ্গে প্রত্যেকের হাতে মাংস তুলে দেন।
মাংস পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন শহরের হোসেনপুর এলাকার দিনমজুর আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে গেছে। বাজারে সব কিছুর দাম বেশি। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এই মাংস অনেক বড় সহায়তা। হাজী আব্দুস সাত্তার গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এজন্য আমরা তার জন্য দোয়া করি।
একইভাবে মাংস পেয়ে খুশি হন সদর উপজেলার এক অসহায় নারী রওশন আরা। তিনি বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ, সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়। ঈদে এই মাংস পেয়ে খুব উপকার হয়েছে। আমাদের মতো মানুষের কথা চিন্তা করে যারা সাহায্য করেন, আল্লাহ তাদের ভালো রাখুক।
এ সময় হাজী আব্দুস সাত্তার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সবসময় দেশের মানুষ ও গরিব-দুঃখী মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তার আদর্শ থেকেই আমরা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা পাই। আজকের এই মাংস বিতরণ কর্মসূচি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি অসহায় মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটানোর চেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান মানুষদেরও উচিত গরিব ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সবচেয়ে বড় মানবিকতা। ভবিষ্যতেও আমি আমার পক্ষ থেকে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজন ঘিরে এলাকায় মানবিক ও সহমর্মিতার এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
পড়ুন : মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নদী থেকে অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহ উদ্ধার


