আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ‘মিস ইউনিভার্স’ ২০০৬ সালের আসরে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিস ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ ৭৩ বছর নিয়মিত অংশগ্রহণের পর সে ঐতিহ্যে বিরতি টানছে সংস্থাটি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফ্রান্স ১৯৫২ সাল থেকে ‘মিস ইউনিভার্স’ সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আসছে। তবে এবারই প্রথম তারা এই আসর থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কারণ হিসেবে মিস ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অব্যবস্থাপনা, নীতিগত পরিবর্তন, একাধিক অনিয়ম ও অসংগতির উপস্থিতি প্রতিযোগিতায় থাকায় এমন সিদ্বান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি আরও জানায়, দেশের পরিচয়, মূল্যবোধ ও অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার অবস্থান থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এদিকে ২০২৬ সালে ‘মিস ফ্রান্স’ খেতাব জয়ী হিনাউপোকো দেভেজে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ‘মিস ইউনিভার্স’ খেতাব জয় ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার নৈতিকতা ও মানের অবক্ষয়ের উপস্থিতি থাকায় এ আসর তিনি বয়কট করছেন।
ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার অঙ্গনে নতুন আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিনের অন্যতম নিয়মিত ও প্রভাবশালী অংশগ্রহণকারী দেশের এমন সরে দাঁড়ানোকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন অনেকে।
এ বিষয়ে অবশ্য আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ জানায়, চলমান বৈশ্বিক বিবর্তনের অংশ হিসেবে সংস্থাটি ফ্রান্সের জন্য নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে এবং সেটি সরাসরি তারা তত্ত্বাবধান ও প্রচার করবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, নতুন দিকনির্দেশনাটি মিস ইউনিভার্স ফ্রান্সের পরিচিতি, উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সংগতিকে আরও শক্তিশালী করবে। নারীদের ক্ষমতায়ন অব্যাহত রাখবে। এ অঙ্গীকার বিশ্বজুড়ে ‘মিস ইউনিভার্স’ ব্র্যান্ডকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রসঙ্গত, ফ্রান্স এ পর্যন্ত মোট দুইবার ‘মিস ইউনিভার্স’ খেতাব জিতেছে। ১৯৫৩ সালে ফ্রান্সের অংশ নেয়া দ্বিতীয় আসরে দেশটির হয়ে প্রথমবার শিরোপা অর্জন করেন ফরাসি সুন্দরী ক্রিস্টিয়ান মার্তেলে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ফ্রান্সের আইরিস মিতেনার এ মুকুট জয় করেন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

