আমার নাতি ঘুম থাইক্যা উঠে বাইরে বের অইছে।আমি নাতির লাগি রুটি-মাংস রান্না কইরা রাখছি। বাইরে থেকে আইয়্যা খাইবো, ও মাহির এহন তোর রুটি মাংস কেলাখাইবো?- বলেই আহাজারি করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন নানি হেলেনা খাতুন। মা মুক্তা আক্তার বার বার অচেতন হয়ে যাচ্ছেন একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে। মাহিরের বাবা আব্দুল কাইয়ুম রেণু ও বোন লাইভা পাগল প্রায়। বলা হচ্ছিল মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত মাহির শাহরিয়ারের(২১) কথা।
শনিবার (৩০ মো) আনুমানিক বেলা ১২ টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের চরহোসেনপুর এলাকায় মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের মুখামুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় স্থানীয়রা গুরুতর আহত মাহিরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শেখ তোফায়েল আহমেদ রিয়াদ বলেন, আমি ঈশ্বরগঞ্জ থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ মাহিরের মোটরসাইকেল আমাকে ওভারটেক করে বিশ গজ দূরে যেতেই বিপরীত দিক থেকে আসা মাইক্রোবাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে বাঁধে। এসময় মাহির মোটরসাইকেলসহ ছিটকে গিয়ে রাস্তার পাশে পরে যায়। আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাহির তার বাবা-মায়ের সাথে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের দত্তপাড়া গ্রামের কালীবাড়ি রোডে বসবাস করতেন। মাহির শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে বাড়ি ফিরেছে লাশ হয়ে। মাহিরের গ্রামের বাড়ি পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার মুসল্লি এলাকায়। তার বাবা আব্দুল কাইয়ূম রেনু ঈশ্বরগঞ্জ বসবাস করতেন।
পড়ুন : নরসিংদীতে প্রাইভেটকার-বিভাটেকের সংঘর্ষে এক শিশু সহ ২ জন নিহত


