লেবাননে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিউফোর্ট দুর্গ দখল করে নিয়েছে। এই দাবি সত্য হলে এটি হবে চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের জন্য বড় সামরিক অর্জন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি লেবানন সরকার।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরের কাছে অবস্থিত বিউফোর্ট দুর্গ (কালাত আল-শাকিফ) দখল করে নেয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও এপি জানিয়েছে, ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান দুর্গটির ওপর ইসরায়েলের পতাকা উড়তে থাকা ছবি প্রকাশ করার পর এই তথ্য সামনে আসে।
ক্রুসেডারদের নির্মিত এই দুর্গটি লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি উঁচু পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি লেবাননের কর্তৃপক্ষ।
অবশ্য ইসরায়েলের দাবি সত্য হলে এটি দেশটির সামরিক বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে। চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে যুক্ত রয়েছে ইসরায়েল।
মূলত বিউফোর্ট দুর্গ ইউনেস্কো-সুরক্ষিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। ২০০০ সালে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগে ইসরায়েল ১৮ বছর এই দুর্গটি দখল করে রেখেছিল। ১৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল বারবার তা লঙ্ঘন করেছে। আর ইসরায়েলের বর্তমান অভিযানকে গত ২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে বিউফোর্ট দুর্গ দখলকে ‘কৌশলগত বিজয়’ বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তিনি বলেছেন, গোলানি ব্রিগেডের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দক্ষিণ লেবাননের বিউফোর্ট দুর্গ দখল করা হয়েছে।
টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নির্দেশনা এবং আমার তত্ত্বাবধানে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে অভিযান সম্প্রসারণ করেছে, লিতানি নদী অতিক্রম করেছে এবং বিউফোর্ট রিজ দখল করেছে। এটি গ্যালিলি অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও আমাদের বাহিনীর সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানগুলোর একটি।’
তিনি আরও জানান, অভিযানের বিষয়টি এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল। কাটজ বলেন, লড়াই এখনও চলছে এবং হিজবুল্লাহকে দুর্বল করা ও ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে ইসরায়েলের এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি লেবাননের কর্তৃপক্ষ।
পড়ুন : লেবাননে ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলা, ৬ শিশুসহ একই পরিবারের ৯ সদস্য নিহত


