মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে চলমান আলোচনার মধ্যেই বড় দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের কাছে আরও কঠোর শর্তযুক্ত একটি সংশোধিত শান্তি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে ইরান। যদিও হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এখনও রয়ে গেছে।
সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ বলছে, পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের কাছ থেকে নিশ্চয়তা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সময়ে খবর সামনে এসেছে যে তিনি আরও কঠোর শর্তসংবলিত একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব তেহরানে পাঠিয়েছেন। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার চুক্তি আরও বিলম্বিত হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েক সপ্তাহের প্রচেষ্টার পরও হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। কারণ আলোচনা চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য এবং মাঝে মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প আরও ‘কঠোর’ শর্তযুক্ত একটি নতুন প্রস্তাব কাঠামো ইরানের কাছে বিবেচনার জন্য পাঠিয়েছেন। তবে ওই শর্তগুলো কী, তা স্পষ্ট করা হয়নি। ট্রাম্প অবশ্য আগেই বলেছেন, যেকোনও চুক্তির ক্ষেত্রে তার প্রধান দুটি লক্ষ্য হলো— ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধ করা এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩০ মে) রাতে ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার একমাত্র যে নিশ্চয়তাটি প্রয়োজন, তা হলো (ইরানের কাছে) কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকবে না। তারা এতে সম্মত হয়েছে এবং বিষয়টি খুবই আকর্ষণীয়।’
তবে তেহরান এর আগেও ট্রাম্পের এমন দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। দুই পক্ষের মূল অগ্রাধিকারগুলোর ক্ষেত্রেও এখনও বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। তবে বৈঠক শেষে তিনি চুক্তি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি।
বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি একটি ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে যাচ্ছেন। পরে প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকটি কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প এমন চুক্তিতেই স্বাক্ষর করবেন, যা তার নির্ধারিত ‘রেডলাইন’ মেনে চলবে এবং ইরানের পরমাণু সক্ষমতাকে কমিয়ে আনবে।
ইরান জানিয়েছে, পরমাণু কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় যাওয়ার আগে তারা ১২০০ কোটি ডলার মূল্যের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে।
ইরান আরও বলেছে, যুদ্ধের অবসান সংক্রান্ত যেকোনও সমঝোতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ সেখানে এখনও সংঘাত চলছে। এদিকে বৈরুত অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ‘বিধ্বংসী নীতি’ অনুসরণ করছে এবং হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালাচ্ছে।
অবশ্য কয়েকদিন আগেও ট্রাম্প ও মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তারা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। তবে ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প চুক্তির বিষয়ে তাড়াহুড়া না করার মনোভাব দেখান এবং নতুন করে সামরিক পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দেন।
পড়ুন : ইরানে হামলা ও সামরিক অভিযান চালানো উচিত হয়নি : ট্রাম্প


