এখন থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে কোনো ঋণের বিপরীতে গ্যারান্টি দিলে সরকার ০.২৫ শতাংশ হারে গ্যারান্টি ফি নেবে।
মঙ্গলবার (২ জুন) এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।
পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি ঋণ আইন, ২০২২ এবং রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি বা কাউন্টার গ্যারান্টি নীতিমালা, ২০১৪-এর আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার অনুকূলে দেওয়া রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত ঋণের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগ এককালীন ০.২৫ শতাংশ হারে গ্যারান্টি ফি আরোপ করতে পারবে। এ ফি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থা, সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি বা যৌথ উদ্যোগের কোনো প্রতিষ্ঠান দেশি কিংবা বিদেশি উৎস থেকে সরকারের গ্যারান্টির বিপরীতে নতুন ঋণ নিতে চাইলে এ ফি দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির আওতায় ঋণ গ্রহণ নিরুৎসাহিত করা এবং রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাগুলো নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রায়ই দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ঋণের শর্ত হিসেবে সরকারি গ্যারান্টি চায়। সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয় এ ধরনের গ্যারান্টি দিয়ে থাকে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ডেট বুলেটিন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্থার দেশি-বিদেশি ঋণের বিপরীতে সরকার ১ লাখ ৬ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকার গ্যারান্টি দিয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৫৮ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ৪৮ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা।
গ্যারান্টিযুক্ত মোট ঋণের অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎ খাতের। এ ছাড়া কৃষি খাত ও বাংলাদেশ বিমানের ঋণের বিপরীতেও সরকারি গ্যারান্টি রয়েছে। তেল আমদানির জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিদেশি একটি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছে, যার বিপরীতে সরকার গ্যারান্টি দিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) কৃষিঋণের বিপরীতেও সরকারি গ্যারান্টি রয়েছে।
পড়ুন:এলডিসি থেকে উত্তরণে আরও ৩ বছর সময় পাচ্ছে বাংলাদেশ
দেখুন:প্রধানমন্ত্রীর কাছে জীবনের নিরাপত্তা চাইলেন মুন্সীগঞ্জের সেই নারী |
ইমি/


