চরফ্যাশনে সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে লাইসেন্স বিহীন কিংবা মেয়াদ উত্তীর্ন লাইসেন্স ব্যবহার করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন এক শ্রেণীর অসাধু ডায়গনস্টিক ব্যবসায়ী। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে অনভিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে সিজারিয়ানের মতো ঝুঁকিপুর্ন অপারেশন করানো হয়। একারণে প্রায়ই কোননা কোনো ডায়গনস্টিক সেন্টারে নবজাতক কিংবা গর্ভবর্তীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
গতকাল মঙ্গলবার চরফ্যাশন হাসপাতাল রোডের ‘সৌদিয়া হাসপাতাল এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারে’ এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকের ভুলে নবজাতক মারা গেছে স্বজনদের এমন অভিযোগে ক্লিনিকটিতে তদন্তে যান চরফ্যাশন উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) মো. এমাদুল হোসেন। নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, রুগীর স্বজন এবং চিকিৎসক উভয়ের ভুল আছে। ডেলিভারী ৫০ ভাগ ঝুঁকিপূর্ন জেনেও স্বজনরা এখানে ডেলিভারী করানোর অনুমতি দেয়া এবং চিকিৎসকরা ডেলিভারি করানো ঠিক হয়নি। চিকিৎসকের উচিত ছিলো উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্রে পাঠানো। তিনি আরও বলেন , ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকায় নবায়ন না করা পর্যন্ত তাদেরকে সিজার অপারেশনসহ সার্জিক্যাল সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, ৬ মে উপজেলা সদরের ইকরা হাসপাতাল এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারে গর্ভের সন্তানসহ এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ভূল চিকিৎসায় গর্ভবর্তীর মৃত্যুর অভিযোগে চিকিৎসকের বিচার দাবীতে মানববন্ধন হয়। জনতার প্রতিবাদের মুখে ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক আখি আক্তার রাতের গভীরে চরফ্যাশন থেকে চলে যান।
এর আগে হাসপাতাল রোডের আদদ্বীন হাসপাতাল এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারে এক গর্ভবতীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ভুল চিকিৎসায় গর্ভবতীর মৃত্যু হলে অজ্ঞান করা হয়েছে বলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে ভোলা পাঠিয়ে দেয়া হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত্যু বলে জানালে পরে এনিয়ে হৈচৈ হয়।
সচেতন মহলের দাবি, প্রতিটি ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতালের লাইসেন্স, নার্সদের সনদ ও যন্ত্রপাতি যাচাই-বাছাই করা উচিত। এসব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যতীত
নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান খুলে রোগী ও তার স্বজনকে চিকিৎসা সেবার নামে কেউ যেন প্রতারিত না করতে পারে।
পড়ুন- বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র


