বিজ্ঞাপন

শাহজালাল বিমানবন্দরে আবারও আগুন, গাফিলতি পেলে কঠোর অ্যাকশন : প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ১৮ অক্টোবরের পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার বিমানবন্দরে আগুন লাগল। শুক্রবার ৫ জুন গভীর রাতে ৯ নম্বর গেইট সংলগ্ন কার্গো শেডের আমদানি শাখায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট রাত সাড়ে ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় কোনো ফ্লাইট বন্ধ হয়নি। তবে আগুনের কারণ ও প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

তদন্ত কমিটি গঠন, শনিবার প্রতিবেদন
ঘটনার পর এভিয়েশন সিকিউরিটির পলিসি অ্যান্ড সার্টিফিকেশনের পরিচালক ইফতেখার জাহান হোসেনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি টেম্পোরারি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকও রয়েছেন। শনিবার ৬ জুন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ৯ নম্বর গেইটে সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “তদন্তে কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে শক্ত অ্যাকশন নেওয়া হবে। এবার যদি কারও গাফিলতির কারণে হয়ে থাকে, তাহলে খুব শক্ত অ্যাকশন নেব। এ ধরনের ঘটনার কোনো পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।”

তিনি বলেন, গত বছরের ১৮ অক্টোবর অগ্নিকাণ্ডের পর পুড়ে যাওয়া কার্গো ভিলেজ ঠিক করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিএন্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে আলাপ করে বোঝা গেছে, মালামাল দ্রুত ক্লিয়ার না করার বিষয়ে তাদের কিছু গাফিলতি আছে। “কন্টেইনারের মাঝখানে স্তূপ আকারে দেড়শ টনের বেশি মালামাল ছিল। অথচ এখানে ২০ টনের বেশি মালামাল থাকার কথা না,” বলেন প্রতিমন্ত্রী।

আপাতদৃষ্টিতে শর্ট সার্কিট থেকে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কিন্তু শর্ট সার্কিট হবে কেন? এর আগেও যেটা হয়েছিল। আমাদের নিশ্চয়ই গাফিলতি রয়েছে, এটি স্বীকার করতে হবে। এত গার্ড থাকা অবস্থায় শত্রুতার কথাও বলতে পারছি না। আবার এত গার্ড ভেদ করে সেটিও করার কথা না।”

প্রতিমন্ত্রী জানান, তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। “আসল ঘটনা কী, কেন বারবার হচ্ছে, এটি নিরসনের জন্য শক্ত পদক্ষেপ নেব,” বলেন তিনি।

এমপি জাহাঙ্গীরের বক্তব্য
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “বিমানবন্দরে আগুন লাগার ঘটনা দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা, তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিকে সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলেছি। রিপোর্ট পেলে বুঝতে পারব।”

শেড নির্মাণ প্রসঙ্গ
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৮ অক্টোবরের আগুনের পর শেড নির্মাণ করা যায়নি। সরকারের মেয়াদ সাড়ে তিন মাস হওয়ায় এবং জাপানের সঙ্গে থার্ড টার্মিনালের চুক্তি ও পেছনে এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের জন্য দুটি গোডাউন নির্মাণের কারণে নতুন করে শেড না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে আট লাখ টন করে মালামাল রাখা যাবে।

তিনি আরও বলেন, “আপাতত ৬ মাসের জন্য ক্যানোপি বা শেড দিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল, কিন্তু এখনও তারা করেনি। তদন্তের পর বোঝা যাবে কে দায়ী। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও হয় কেন, সেজন্য প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ঢাকার আবহাওয়া আজ কেমন থাকবে

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন