বিজ্ঞাপন

জ্বালানি সংকট কাটাতে তিন মাসের মজুতসহ ১২ দফা সুপারিশ

দেশে জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ সম্প্রসারণ করে কমপক্ষে তিন মাসের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ নিশ্চিতসহ ১২ দফা সুপারিশ করেছে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি। রোববার (৭ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে সংসদে এই সুপারিশ প্রতিবেদনটি পেশ করেন বিশেষ কমিটির সভাপতি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বিশেষ কমিটির করা ১২ দফা সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলো হলো- জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ বৃদ্ধি, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা, এলএনজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো বিকল্প উৎসের ব্যবহার বাড়ানো এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন, এসপিএম ও ইআরএল-২ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা। সেই সঙ্গে ভবনের ছাদে (রুফটপ) সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি তা নিয়মিত তদারকি করা, সিস্টেম লস হ্রাস এবং বিপিসির সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা চালানোর সুপারিশ করে বিশেষ সংসদীয় কমিটি।

এছাড়াও কমিটির কার্যপরিধির আলোকে রিপোর্টে বিরোধী দলের সদস্যদের পক্ষ থেকেও এতে ১০টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা পূর্বাভাসের জন্য রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সমীক্ষা পরিচালনা এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জ থেকে পাইপলাইনের সংযোগ উন্নয়ন, গভীর ও স্থলসমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান, সিলেটে আবিষ্কৃত তেলের কূপের মতো দেশের অন্য স্থানেও স্বচ্ছতার সঙ্গে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখার তাগিদ দেয়া হয়। সেই সঙ্গে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় পর্যায় পুরোপুরি অর্থায়ন করা, তেল বিতরণে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা, ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর-বিদ্যুৎ উৎপাদন ১০ শতাংশে উন্নীত করতে সোলার সামগ্রীর ওপর থেকে সব ধরনের কর প্রত্যাহার এবং সরকারি দপ্তরে গাড়ির ব্যবহার কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের উপসংহারে বিশেষ কমিটি অভিমত ব্যক্ত করেছে যে, সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতি, অবকাঠামো এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে অধিকতর স্থিতিশীল, বহুমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করা এখন সময়ের দাবি। তাই বর্তমান সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাঠামোগত সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি বলেও মনে করে সংসদীয় এই বিশেষ কমিটি।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে গত ২৬ এপ্রিল জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই সময় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে ৩০ দিন মেয়াদি এই কমিটির মূল কার্যপরিধি ছিল- সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে সুপারিশসহ সংসদে রিপোর্ট প্রদান করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কমিটি মে মাসের ৩ ও ১৯ তারিখে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করে। ওই বৈঠকগুলোয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এরফানুল হক এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারাও সাচিবিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : রাজধানীতে দিনে-দুপুরে গুলি করে ব্যাংকের সামনে থেকে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন