মালয়েশিয়ায় জোহর রাজ্যে অভিবাসন বিভাগের পৃথক অভিযানে বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট সহ দুই বাংলাদেশি দালালকে গ্রেফতার করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।
বুধবার (১০ জুন) জোহর বারু ইমিগ্রেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ‘অপারেশন সেরকাপ “- এর মাধ্যমে দুইটি দালাল চক্রের অফিসে অভিযান পরিচালনা করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এই চক্রগুলো অবৈধভাবে শ্রমিক সরবরাহ, ওয়ার্ক পারমিট এর অপব্যবহার এবং উৎপাদন ও নির্মাণ খাতের জন্য পাশের শর্ত লঙ্ঘনের সাথে জড়িতে ছিল। জোহর রাজ্যে অভিবাসন পরিচালক মোঃ রুশদি বিন মোঃ দারুস জানান, রাজ্যেটিতে এমন অনেক কোম্পানি আছে যারা বিদেশি কর্মী কোটার জন্য অনুমোদন পেলেও তাদের নিবন্ধিত ব্যবসায় নিজ নিজ কর্মীদের ব্যবহার করেনি। কোম্পানিগুলো নিজস্ব কর্মীদের অন্য কোন নিয়োগকর্তাদের কাছে বিক্রি করে দেয়, বেআইনিভাবে অতিরিক্ত মুনাফা আয় করে।
গত ৪ জুন জোহর বারুতর পান্ডান ট্রেড সেন্টারে অবস্থিত একটি বিদেশী কর্মী ব্যবস্থাপনা এজেন্সি অফিসে প্রথম অভিযানটি প্ররিচালিত হয় এতে মালয়েশিয়ায় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও ৩৩ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি পুরুষ এজেন্টকে সফলভাবে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এসময় ৩৬ টি বাংলাদেশি ও ভারতীর পাসপোর্ট সহ নগদে ৫ হাজার রিঙ্গিত জব্দ করা হয়। অভিযুক্তকে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এর ধারা ১৫(১) (এফ) এর অধীনে গ্রেফতার করা হয়।
৯ জুন জোহর বারুর তামান সেটিয়া ট্রপিকায় অবস্থিত ফরেন ওয়ার্কার্স ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির একটি কার্যালয়ে এবং তামান কেম্পাস উতামার দুটি অ্যাপার্টমেন্টে দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে মালয়েশিয়ায় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও অবস্থানকারী দুই এজেন্ট ও চারজন জন বিদেশি কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় ৪৮টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট সহ ৩,৩০০ রিঙ্গিত এবং দুটি গাড়ি জব্দ করা হয়।
মোঃ দারুস আরো জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের কাছে তথ্য আছে রাজ্যজুড়ে কোম্পানিটির প্রায় ৫০০ জন বিদেশি কর্মী সরবরাহ করে আসছে। এই বিদেশী কর্মী সরবরাহ করে মাসে আনুমানিক ২২৫,০০০.০০ রিঙ্গিত মুনাফা করে।
দুইটি এজেন্সি অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এর ধারা ৫৬(১)(এফ) অধীনে অপরাধ করেছে। বাকি চারজন বিদেশি কর্মীকে অভিবাস আইন ১৯৫৯/৬৩ এর ধারা ৬(১)(সি) এবং ধারা ১৫(১)(সি) এর অপরাধের জন্য তদন্ত করা হবে।
জোহর রাজ্যে এজেন্ট কোম্পানি বা বিদেশীদের কোন অবৈধ কার্যকলাপ এর তথ্যা দেওয়ার আহবান করেছে ইমিগ্রেশন পরিচালক।
পড়ুন- আদ-দ্বীনের জবাবে সন্তুষ্ট নই, সিদ্ধান্ত হবে বৈঠকের পর: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


