যোগাযোগের জন্য নেই টেকসই সেতু, প্রতিবছর নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও কৃষিজমি। কাঁচা ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের কারণে বর্ষায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে অনেক এলাকা। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য। দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানের দাবিতে মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ও আশপাশের চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ মানববন্ধন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১০টায় রংপুর মোড় থেকে দিঘীরপাড় ঘাট পর্যন্ত সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, যুগের পর যুগ ধরে চরাঞ্চলের মানুষ মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রে তাঁরা নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোতে যোগাযোগ সংকট, নদীভাঙন, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং উন্নত সড়কের অভাব মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।
মানববন্ধন থেকে চারটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—চরাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে একটি টেকসই সেতু নির্মাণ, নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারকে সংযুক্ত করতে পিচঢালাই সড়ক নির্মাণ এবং দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সেতুর অভাবে প্রতিদিন হাজারো মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। একটি সেতু নির্মিত হলে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বক্তারা আরো বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীর ভাঙনে বহু পরিবার বসতভিটা হারায়, কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। তাই স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন এলাকার মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার দাবিতে পরিণত হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
পড়ুন: কাঠাল খাওয়ার পর ঘুমের মধ্যে ভিক্ষুকের মৃত্যু, রেখে গেলেন স্ত্রী ও চার কন্যা


