পঞ্চগড় বিদ্যালয়ের মাঠে খেলার অপরাধে ৩ ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করলো প্রতিবেশী এমনই ঘটনা ঘটেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলা জালাসী পাড়া এলাকার শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলো বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজওয়ান খান অপূর্ব, মিম হোসেন এবং চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাওহীদ হাসান আশিক। আহতদের প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে তাদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, টিফিন বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা স্কুল মাঠে ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে বলটি বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাড়িতে গিয়ে পড়ে। এ সময় বাড়ির মালিক জয়তুন বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেলও নিক্ষেপ করেন। এতে তিন শিক্ষার্থী আহত হয়।
শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদা জান্নাতুল পারভীন বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা করে এবং ফুটবলেও ভালো ফলাফল অর্জন করে। আজ বলটি পাশের বাড়িতে যাওয়ার পর ওই মহিলা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন বলে তারা আমাকে জানায়। শিক্ষার্থীরা কান্নাকাটি করছিল এবং তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
আহত শিক্ষার্থী তাওহীদ হাসান আশিকের বড় ভাই আবির বলেন, “প্রতিবেশীরা যদি শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ করে, তাহলে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে ভয় পাবে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জয়তুন বেগমের স্বামী হাচান আলি বলেন, “আমার স্ত্রী আমাকে জানিয়েছে, রান্নাঘরে ফুটবল গিয়ে পড়েছিল। এতে রাগ করে সে রান্নার কাজে ব্যবহৃত লাঠি দিয়ে শিশুদের আঘাত করেছে।”
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন : উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে কুড়িগ্রামে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত


