বিজ্ঞাপন

অপারেশন মাঝপথে রেখে পালালেন ডাক্তার; ক্লিনিক মালিকের লাখ টাকা জরিমানা ও বন্ধ ঘোষণা

অস্ত্রোপচার টেবিলে রোগী রেখে ডাক্তার পালিয়ে যাওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী কার্পাসডাঙ্গা বাজারে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেসরকারি অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য বিভাগ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

বিজ্ঞাপন

অভিযানে অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিভিন্ন অনিয়ম তথ্য উঠে আসে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ২ টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ টিম ক্লিনিকটিতে অভিযান চালায়। এ সময় চিকিৎসা সেবার মান, জনবল, অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করে একাধিক অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জুন মুসলিমা খাতুন নামে এক নারীর জরায়ুর টিউমার অপসারণের জন্য ক্লিনিকটিতে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ছাড়াই অপারেশন শুরু করা হয়। আরও বিস্ময়করভাবে অস্ত্রোপচার চলাকালীন একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার অপারেশন অসমাপ্ত রেখেই ক্লিনিক ত্যাগ করেন। এতে রোগীর জীবন ঝুকির মুখে পড়ে। পরে তাকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গায় স্থানান্তর করা হলে সেখানে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনমনে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। রোগীর স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এরই প্রেক্ষিতে বুধবার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে বৃহস্পতিবার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অসঙ্গতি শনাক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং আপাতত ক্লিনিকটি বন্ধ রাখা হয়েছে। কাগজপত্র, চিকিৎসক ও জনবলের বৈধতা, সরঞ্জাম এবং সেবার মান যাচাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া কীভাবে এমন ঝুকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার পরিচালিত হচ্ছিল? তাদের দাবি, মানুষের জীবন নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা যায় না। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত তদারকির ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

দেখুনঃকালিয়াকৈরে স্কুলছাত্রীর ভিডিও টিকটকে ছড়িয়ে সম্মানহানি, আটক ২

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন