মোংলায় কোস্টগার্ডের একটি ভাসমান স্টেশনে অতর্কিত হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে ৪৪ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনায় হামলায় নেতৃত্ব দানকারী বনদস্যু পরিবারের ৩ নারী সদস্য সহ ৬ জনকে আটক করেছে মোংলা থানা পুলিশ । আটক ৩ নারী হলেন সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত, ক্রসফায়ারে নিহত জলফু বাহিনীর আত্মসমর্পনকৃত সদস্য মোস্তফা শেখের স্ত্রী- তাসলিমা বেগম, কন্যা – লিজা আক্তার ও পুত্র বধু – মুক্তা বেগম ।
কোস্টগার্ডের অভিযোগ, অব্যাহত অভিযানে সুন্দরবনে কোন ঠাসা হয়ে গতকাল মোংলার জয়মনি এলাকার হাড়বাড়িয়ায় কোস্টগার্ডের ভাসমান স্টেশনে অতর্কিত হামলা চালায় বনদস্যু পরিবারের নেতৃত্বে এক দল দুর্বৃত্তরা। এ সময় সরকারি সম্পত্তি, অস্ত্র ও গোলাবারুদ রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায় কোস্টগার্ডের সদস্যরা। পরে মোংলা থানা পুলিশ ও কোস্টগার্ডের অতিরিক্ত সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলায় কোস্টগার্ডের ৩ সদস্য সহ আহত হয়েছেন অন্তত ৪ জন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনেকটা পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম।
এদিকে হামলার ঘটনায় আজ সকালে ব্রিফিং করেন কোস্টগার্ড কর্মকর্তার। নিয়মিত অভিযান ও কোস্টগার্ডের তৎপরতায় কোনঠাসা হয়ে স্টেশনে হামলা চালিয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা। এসময় সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয় টি তুলে ধরেন কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোঃ মেজবাউল ইসলাম। তিনি জানান, কোস্টগার্ডের জনবল সংকটের সুযোগে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্টেশনটিতে অতর্কিত হামলা চালায় একটি বনদস্যু পরিবারের নেতৃত্বে এক দল দুর্বৃত্তরা। সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহ বনদস্যু দমন, এবং পুশ ইন ঠেকাতে ৫ মাস ধরে অপারেশন “রোস্টার পিস ইন সুন্দরবন এবং অপারেশন”ম্যানগ্রোভ শীল্ড” নামের দুটি বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে কোস্টগার্ড। অভিযানে ৪২ টি আগ্নেয়াস্ত্র, অসংখ্য গোলাবারুদ সহ ৩৯ জন বনদস্যু আটক করা হয়। এসময় ডাকাতের হাতে জিম্মি থাকা ৪১ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
পড়ুন- শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তুললেই দেশ এগিয়ে যাবে: মির্জা ফখরুল


