২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১৮ লাখ ৭৭ হাজার কোটি রুপির (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা বা ৬ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার) বাজেট প্রস্তাব করেছে পাকিস্তান সরকার। বাজেটে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মসূচি সচল রাখার লক্ষ্যে সরকার একদিকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে, অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয় সীমিত করেছে।
শুক্রবার (১২ জুন) দেশটির অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব পার্লামেন্টকে জানান, আগামী জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে ৩ লাখ কোটি রুপি বরাদ্দ দেয়া হবে, যা বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, ফেডারেল উন্নয়ন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ কোটি রুপি।
অন্যান্য খাতের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন বাবদ ১ লাখ ১ হাজার কোটি রুপি, বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দেয়ার জন্য ৮০ হাজার ৫০০ কোটি রুপি, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৪০ হাজার ৮৯০ কোটি রুপি, দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দ ১৭ হাজার ৯০০ কোটি রুপি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে ১৩ হাজার ৫৬০ কোটি রুপি, শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা এবং শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পে ৭ হাজার ৮৫০ কোটি রুপি, তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন ও টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৭ হাজার কোটি রুপি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ৪৩০ কোটি রুপি বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় উন্নয়ন ও সামাজিক খাতে ১ লাখ ১২ হাজার ৬০০ কোটি রুপি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যার ৬৫ শতাংশ ব্যয় হবে অবকাঠামো নির্মাণে।
প্রস্তাবিত বাজেটে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণ ও ঋণ পরিশোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এর ফলে বাজেটের সিংহভাগ- প্রায় ৭ লাখ ৮২ হাজার কোটি রুপি রাখা হয়েছে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ এবং আসল পরিশোধে জন্য।
শেহবাজ শরিফের সরকার ১৫ লাখ ২৬ হাজার কোটি রুপি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। অথচ বিদায়ী অর্থবছরে ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউ (এফবিআর) নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
শেহবাজ সরকারের এই বাজেটের তীব্র সমালোচনা ও প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল- পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। বাজেট পেশ করার সময় পিটিআই সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্টে তীব্র হট্টগোল ও ‘চোর চোর’ স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান। এই বাজেটকে সম্পূর্ণভাবে আইএমএফ-এর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তৈরি বলে আখ্যা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা।
এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্র: ডন
পড়ুন : জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে রোববার


